মারুফা আক্তার, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য, পেস বোলিংয়ের মূল ভরসা। তুমুল গতিতে বল করেন, ইনসুইংটা একদম সহজাত। এর সাথে পেস বোলার সূলভ আগ্রাসন, উদযাপনে নজর কাড়া, মাঠের বাইরে সবাইকে মাতিয়ে রাখার মতো দারুণ সব কোয়ালিটিও তার মাঝে বিদ্যমান। ছুটি কাটাতে বাড়ি গেলেও থাকেন না ক্রিকেটের বাইরে, বন্ধুদের সাথে নিয়ে চলে যান পাশের এলাকার সাথে ম্যাচ খেলতে। মারুফা এমন এক ক্যারেক্টার, দেশের নারী ক্রিকেটে যা খুব বেশি দেখা যায় না।
সামনে আসছে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডে প্রথমবার খেলতে যাবে বাংলাদেশ নারী দল। সেই রোমাঞ্চও আছে মারুফার মাঝে। টাইমস অব বাংলাদেশের সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে মারুফা শুনিয়েছেন তার আগ্রাসী মানসিকতা, পেস বোলিংয়ের চিন্তাধারা আর বিশ্বকাপের পরিকল্পনা।
টাইমস: আপনি খুব হাসিখুশি ক্যারেক্টার, খুবই জলি মাইন্ডেড, মাতিয়ে রাখেন সব। আগের বিশ্বকাপে আমরা খুব এনজয় করছি আপনার বোলিং পারফরম্যান্স অ্যান্ড অন দ্য ফিল্ড অফ দ্য ফিল্ডের সব। একটা ভিডিও ক্লিপ দেখছিলাম আপনি হাতের মাসল দেখাচ্ছেন ক্যামেরাতে। এই ধরনের ক্যারেক্টার মেয়েদের ক্রিকেটে এটা খুব কম দেখা যায়। এই জিনিসটা ডেভেলপ হয়েছে কীভাবে?
মারুফা: আসলে যখন আমি জাতীয় টিমে ঢুকি তখন আর কি অনেক মানে চুপচাপ থাকতাম মানে আপুরা তো অনেক ফ্রি মাইন্ডেড কিন্তু তারপরেও মানে ভয় ভয় লাগতো মানে জানি না তো কিরকম হবে নতুন ছিলাম তো। তো তারপরে এখন ধীরে ধীরে তারা আমাকে অনেক আদর করে, আপন করে নিয়েছে। তাদেরকেও আমি বড় বোনের মতো দেখি। এখন মনে করেন যে তাদের কাছেও আমি আপন, আমার কাছেও তারা আপন। এখন সবার সাথেই মিশি, তেমন কিছু আর মনে হয় না।
টাইমস: সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচুর ভিডিও দেখা যায় আপনার। গ্রামে ক্রিকেট খেলছেন…
মারুফা: বাসায় গেলে আমি ওপেনার ব্যাটসম্যান (হাসি)। এলাকার যে বড় ভাইরা আছেন, তাদের সাথেই খেলি। এমনকি অন্য এলাকার সাথেও খেলতে যাই।
টাইমস: অবসরেও ক্রিকেট নিয়ে থাকেন। কেমন লাগে বাড়িতে ছুটিতে গিয়ে খেলতে?
মারুফা: হ্যাঁ ভালো লাগে। কারণ যেই ভাইয়েরা আমাকে শুরুর দিকে সাপোর্ট করেছে, তাদের সাথেই খেলি। এখন সেই ভাইয়ারা যদি বলে আমি তো আর তাদের কথা তো ফেলতে পারব না। তাই আনন্দেই খেলি।
টাইমস: আরেকটা ব্যাপার যেটা আপনি বেশ জোরে বল করতে পারেন সেটা তো একটা আলাদা পরিচয়ই দিয়েছে আপনাকে। এর সাথে
টাইমস: আপনার গ্রিপ আর সিমে পিচ করানোর যে এবিলিটি আছে, সেটা কি সহজাত? কীভাবে আয়ত্ত্ব করলেন আরো?
মারুফা: হ্যাঁ এটা আমার ন্যাচারাল। যখন বিকেএসপিতে গেছি ফাতেমা ম্যাম ছিল, তো উনি অনেক কাজ করেছে আমার সাথ। আমার শক্তির জায়গা হচ্ছে ভালো জায়গায় বল করতে পারা। সেটা এখনো ঠিক আছে। সবাই তো একদিনে আর উন্নতি করতে পারে না। সময় লাগে। তবে বিকেএসপিতে গিয়ে আমি একটা ভালো শেপে আসি। সেখান থেকেই তো আমি ডাক পাই জাতীয় দলের ক্যাম্পে।
টাইমস: বিশ্বকাপে পাকিস্তান ম্যাচে সিদ্রা আমিন আর ওমাইমা সোহাইলকে টানা দুই বলে যেভাবে বোল্ড করেছেন, এর আগে কি স্পেসিফিক কি প্ল্যান করছিলেন যে ইনসুইংগারই করবেন?
মারুফা: আমার ন্যাচারাল বলই ফোর্থ-ফিফথ স্টাম্পে ফেললে ঐটা উইকেটে ঢোকে। আমি টার্গেট করেছিলাম সেই স্ট্রেংথের জায়গায় যদি বোলিংটা করি তাহলে অবশ্যই কোনো না কোনো কোনো স্টাম্পে যাবে।
আসলে আমি এটা নিয়ে বিশ্বকাপের এক মাস আগে থেকে ভাবছিলাম যে আমি ঐ ম্যাচে আমি ভালো কিছু করবো। রাশেদ স্যার ছিলেন, আমাদের অ্যানালিস্ট, উনি আমাকে বলছিল’’ “মারুফা তুই মনোযোগ দিয়ে খালি একটু ভাববি। ঘুমানোর আগে ভাববি।”
তো উনার কথামতো আমি মনোযোগ দিয়ে সেটা ভিজুয়ালাইজ করেছি যতটা পারি। আর ম্যাচে আলহামদুলিল্লাহ আমি সফল হয়েছি।
টাইমস: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তো যাচ্ছেন। প্রথমবার ইংল্যান্ডে খেলবেন। লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে খেলবেন গ্রুপ পর্বের লাস্ট ম্যাচ। লর্ডস নিয়ে আইডিয়াটা কী আপনার? কতটা এক্সাইটেড?
মারুফা: এটা আসলে স্বপ্ন। বড় স্বপ্নই বলতে পারেন। বিশ্বকাপে নিজের কাছেই আশা রাখবো আমি যেন আমার ভালোটা করতে পারি। নিজের স্বপ্নের জায়গায় যেন স্বপ্নের মতো কিছু করতে যেন পারি। দোয়া রাখবেন।
টাইমস: লর্ডসে ৫ উইকেট নিলে কিন্তু অনার্স বোর্ডের নাম উঠে…
মারুফা: ইনশাল্লাহ দোয়া রাখবেন।
টাইমস: অনার্স বোর্ডে আপনার নামটা কি দেখবো আমরা?
মারুফা: দোয়া করবেন সবাই। আপনারা দোয়া করলেই আমার হবে ইনশাল্লাহ। একা দোয়া করলে তো হবে না। আপনাদেরও দোয়া লাগবে।


