বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি গর্ব করে বলে ১৯৭১, ১৯৯০, ২০২৪–সবকিছুর ক্রেডিট তাদের। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের জন্মই হয়নি।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমান প্রথমবার নিজের পক্ষ থেকে, পরেরবার আরেকজনের পক্ষ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সবকিছুর ক্রেডিট একক ব্যক্তিকে দিয়ে দেওয়া হলে বাকি যোদ্ধাদের অবস্থান কোথায় থাকে, সেই প্রশ্নও ওঠে। ফ্যাসিবাদী আমলে মুক্তিযুদ্ধকে কুক্ষিগত করার চেষ্টায় জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের চর, দালাল বলা হয়েছিল। জামায়াত ওই রাজনীতি আর দেখতে চায় না
রোববার দুপুরে তিনি রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বিএনপি জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি মধ্য দিয়ে সংসদের যাত্রা শুরু করেছে। বিএনপি গণভোট অধ্যাদেশসহ মানুষের জীবনের স্বার্থে সম্পৃক্ত ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তথা গায়ের জোরে বাতিল করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি। বিএনপি ফ্যাসিবাদের পক্ষে, আর আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘অনেক বিল পাসের আগে আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। তারা আমাদের ব্ল্যাকমেইল করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা তাদের পাতা ফাঁদে পা দিইনি।’
‘আমরা যতদিন সংসদে লড়াই করতে পারব, ততদিন থাকব। আর যখন লড়াই করতে পারব না, তখন এক মিনিটও থাকব না। রাজপথ আমাদের পরিচিত। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদা আদায়ে তাদের সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে লড়াই করব। সেই লড়াইয়ে চূড়ান্তভাবে ফ্যাসিবাদের পতন হবে এবং জনগণের বিজয় হবে,’ যোগ করেন তিনি।
সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এবং ১১দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আজাদ।


