স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিবাহিত হলেও দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি। শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হলেও সাধারণ মানুষের জীবনমানে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। স্বাধীনতার বিনিময়ে দেশবাসী প্রকৃত অর্থে একটি লাল-সবুজ পতাকা ছাড়া তেমন কিছুই পায়নি।’
শুক্রবার বিকাল ৪টায় ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড়ে ঢাকা-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. ইবরাহীমের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুহাম্মাদ রেজাউল করীম অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের অতিমাত্রায় তাঁবেদারির কারণে ভারত বাংলাদেশকে একটি অঙ্গরাজ্যের মতো আচরণ করছে, যা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে তাকওয়াবান ও সৎ নেতৃত্ব নির্বাচনের আহ্বান জানান তিনি।
ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ‘জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে এবং একটি মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। ইসলামী অনুশাসন ছাড়া ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।’
এ সময় তিনি ঢাকা-৫ আসনে শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে মো. ইবরাহীমকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষমতার রঙিন স্বপ্ন দেখিয়ে একদল জনগণকে বিভ্রান্ত করার নীলনকশা করছে। যারা নিজেদের সাথীদের সঙ্গেও ধোঁকাবাজি করতে পারে, তাদের হাতে ইসলাম ও দেশ নিরাপদ নয়।’
তিনি জানান, ইসলামী আন্দোলন অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে রাজনীতি করে আসছে।
ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী মো. ইবরাহীম তার বক্তব্যে বলেন, ‘তিনি দুইবার নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।’ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দুর্নীতিমুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক ঢাকা-৫ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক লোকমান হোসাইন জাফরী, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দেলওয়ার হোসাইন সাকীসহ কেন্দ্রীয়, মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বিকাল থেকেই ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জনসভায় যোগ দেন। অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাতের মাধ্যমে জনসভার সমাপ্তি ঘটে।


