বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ২ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বনভূমি কমছে, যা বৈশ্বিক গড় ১ দশমিক ৩ শতাংশের প্রায় দ্বিগুণ। বর্তমানে দেশের মোট ভূমির ১৪ দশমিক ৫১ শতাংশ বনাঞ্চল রয়েছে, যেখানে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় অন্তত ২৫ শতাংশ বনভূমি প্রয়োজন বলে সেমিনারে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর, সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আয়োজিত এক সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সেমিনারে বক্তারা জানিয়েছেন, দেশের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বনসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। তবে চিংড়ি ঘের ও লবণচাষ সম্প্রসারণ, অপরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার, দখল, অবকাঠামো নির্মাণ এবং বনভূমি রূপান্তরের কারণে বনাঞ্চল দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে।
আলোচনায় বলা হয়, অবৈধ দখল, কৃষি সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক চাষাবাদ এবং সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণের চাপে মধুপুরের শালবনের প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি বননির্ভর জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী জীবনধারাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
বক্তারা আরও বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে চিংড়ি ঘের ও লবণচাষের জন্য বন উজাড়, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং ভূমি দখলের কারণে উপকূলীয় সুরক্ষা দুর্বল হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় বাড়ছে।
সেমিনারে জানানো হয়, সুন্দরবন জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, মিঠাপানির প্রবাহ হ্রাস, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, শিল্পায়ন এবং অতিরিক্ত বনসম্পদ আহরণের মতো বিভিন্ন চাপের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে ‘টপ ডাইং’ রোগের কারণে সুন্দরী গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় দ্রুত বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
তারা বলেন, সুন্দরবনসংলগ্ন পরিবেশগত সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকায় দুর্যোগ, জলাবদ্ধতা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, মিঠাপানির সংকট এবং খাল দখল ও ভরাটের কারণে পরিবেশ ও মানুষের জীবন-জীবিকা ঝুঁকিতে পড়ছে। অপরিকল্পিত চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষ প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত করছে এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলছে।
বক্তাদের অভিযোগ, বন ব্যবস্থাপনায় আইন, নীতিমালা ও পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই অবকাঠামো নির্মাণের ঘটনাও ঘটছে। বন দস্যু দমন, প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার এবং সুন্দরবনের খাল ও প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।


