যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী রোববার স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে মাঠে থাকবেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট চলাকালে কোনো ম্যাচে উপস্থিত না থাকলেও গ্র্যান্ড ফাইনাল দিয়েই বিশ্বকাপে তার প্রথম উপস্থিতি হবে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দর্শকপ্রিয়, সবচেয়ে নিরাপদ এবং সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ হিসেবে শেষ হবে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আয়োজনের সক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য এর চেয়ে উপযুক্ত সমাপ্তি আর হতে পারে না।’
লেভিট জানান, শুক্রবার নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন ট্রাম্প।
গত জুনে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ঘোষণা দিয়েছিলেন, নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ট্রাম্প উপস্থিত থাকবেন এবং বিজয়ী দলের হাতে শিরোপা তুলে দেবেন। তবে সে সময় হোয়াইট হাউস বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
লেভিট বলেন, ট্রাম্প ফাইনালে আর্জেন্টিনা নাকি স্পেন—কোন দলকে সমর্থন করবেন, তা তিনি জানেন না। গত সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনে ইরান যুদ্ধের বিষয়ে সহযোগিতা না করায় স্পেনের সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প।
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচে মাঠে উপস্থিত না থাকলেও টুর্নামেন্ট ঘিরে বিতর্কে জড়িয়েছেন ট্রাম্প।
চলতি মাসের শুরুতে তিনি নিশ্চিত করেন, বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য তিনি ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর কাছে অনুরোধ করেছিলেন।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী ম্যাচ, বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার আগে বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ফিফা। তবে তাকে দলে পেয়েও স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে যায়।
ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব যুক্তরাষ্ট্র পাওয়ার পেছনে তারই ভূমিকা ছিল। কারণ তার প্রথম মেয়াদে ফিফা এ সিদ্ধান্ত নেয়।
এদিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। গত বছর ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে তিনি ট্রাম্পকে ফিফা পিস প্রাইজ দেন করেন। এর কয়েক মাস পরই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে।
বিশ্বকাপের ট্রফি ট্রাম্পের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ গত বছর নিউ জার্সির একই স্টেডিয়ামে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে পিএসজি-কে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ইংলিশ ক্লাব চেলসির অধিনায়ক রিস জেমসের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার পর ট্রাম্প মঞ্চ ছাড়েননি। এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে দলের উদযাপনে তিনি অংশ নেন।
পরে ওই ক্লাব বিশ্বকাপের একটি প্রতীকী ট্রফিও নিজের কার্যালয়েও রেখে দেন ট্রাম্প।


