জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসকে নারীবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪ দফা জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি প্রশাসনিক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, কুইক রেসপন্স টিম গঠন, হটলাইন চালু, সিসিটিভি ক্যামেরা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আলোর ব্যবস্থা এবং বুলিং-র্যাগিং প্রতিরোধে স্থায়ী কমিটি গঠন।
গত ১২ মে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে এক দুষ্কৃতকারী টেনেহিঁচড়ে অন্ধকার স্থানে নিয়ে হেনস্তা ও প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে প্রশাসন।
উপাচার্য জানান, সাধারণ শিক্ষার্থী, জাকসু নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে ওই দুষ্কৃতকারীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে এবং দেশের প্রচলিত আইনে থানায় মামলা করা হয়েছে।
অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে, যোগ করেন তিনি।
নিরাপত্তা জোরদারকরণের লক্ষ্যে সভায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা নিরাপত্তাজনিত কোনো অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
এই দলের সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য ভাতার ব্যবস্থাও থাকবে। তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানানোর সুবিধার্থে একটি হটলাইন নম্বর চালুর পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করে জানানো হয়েছে, এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে বহিরাগতদের পরিচয়পত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি লগবুকে নাম, ঠিকানা ও প্রবেশের উদ্দেশ্য উল্লেখ করতে হবে। তবে ক্যাম্পাস-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের যাতায়াতের জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থা করা হবে।
এ ছাড়া নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং দোকানকর্মীদের তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে ডেটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের সব ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ ফটক, প্রান্তিক ফটক ও গেরুয়া ফটকে অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হবে এবং এক মাসের মধ্যে নতুন নারী ও পুরুষ নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি আরও ১০০ জন নতুন আনসার সদস্য মোতায়েনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ও প্রবেশপথের ত্রুটি দ্রুত সংস্কার, অননুমোদিত প্রবেশপথ বন্ধ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং নতুন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।
আল-বেরুনী হলের টিনশেড এক্সটেনশন ভবনটি অবিলম্বে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধ নীতিমালা-২০২৩’ অনুযায়ী একটি স্থায়ী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, ‘নারী শিক্ষার্থীরা আমার কন্যাতুল্য। আমার কন্যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবকিছুর আগে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, প্রধান গেট থেকে প্রান্তিক গেট পর্যন্ত পুলিশের পাঁচটি চেকপোস্ট স্থাপন এবং বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণসহ নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন এসব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে।’


