চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগরে নাজুক পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়েছে স্বাস্থ্যসেবা। চিকিৎসক ও ওষুধের তীব্র সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে রোগীদের ভিড় থাকলেও বেশিরভাগ জায়গায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা কর্মী নেই। অনেক কেন্দ্রে মাত্র একজন কর্মীকেই চিকিৎসা প্রদান, ওষুধ বিতরণ এবং প্রশাসনিক কাজ সামলাতে হচ্ছে।
উথলী ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও আন্দুলবাড়ীয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে মাত্র একজন কর্মী সব দায়িত্ব পালন করছেন। এই কারণে রোগীরা প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না। শাহপুর ও রায়পুর কমিউনিটি ক্লিনিকের চিত্রও একই রকম।
উথলী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মুক্তা খাতুন জানান, সেখানে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন এমএলএসএস থাকার কথা। তবে তিনি একাই রোগী দেখা থেকে শুরু করে ওষুধ বিতরণ ও কেন্দ্র পরিচালনার সব কাজ করছেন।
মুক্তা খাতুন আরও জানান, করোনা মহামারির সময় একজন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়। গত ১১ বছর ধরে সেখানে কর্মরত আছেন মুক্তা খাতুন, এখন তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও নিজেকেই করতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের এই চিকিৎসক সংকট ও ওষুধের অভাব স্বাস্থ্যসেবাকে দিন দিন খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে অথবা দূরে কোথাও চলে যাচ্ছে। এতে তাদের ওপর আর্থিক চাপ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, তারা এই সংকটের কথা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত এই সমস্যা সমাধানে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ এবং ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করে ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা ফিরিয়ে আনার জন্য দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


