২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের চেয়ে এবার পাসের হার কমেছে।
গত বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১ বোর্ডে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সেই হিসেবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ।
সোমবার সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ ফল ঘোষণা করেন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আব্দুল খালেক, বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিনসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী, যা গত বছরের তুলনায় ২২ হাজার ৩৫৬ কম।
৯টি সাধারণ বোর্ডের ফলাফলের চিত্র
প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৬১০জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৮১৪ জন এবং ছাত্রী ৫ লাখ ৩ হাজার ৭৯৬জন। পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন।
মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের চিত্র
প্রকাশিত ফলাফলে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায় ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন। এ বোর্ডে পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ জন।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৪ হাজার ৪৭০ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। এ বোর্ডে পাসের হার ৫৮.২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন।
বোর্ডভিত্তিক পাসের হার ও জিপিএ-৫
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বোর্ডভিত্তিক পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৫৩ জন।
অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ হাজার ৩২৭ জন, যশোর বোর্ডে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ হাজার ৪৭৮ জন। সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৭৭৮ জন। ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ জন। কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৮১৪ জন।
গ্রুপভিত্তিক উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ও পাসের হার
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর গ্রুপভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পাস করেছে। বিজ্ঞান বিভাগে মোট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ৪ লাখ ৫৭ হাজার ১৮৮ জন, পাসের হার ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর মানবিক বিভাগে মোট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ৩ লাখ ১ হাজার ১৭৪ জন, পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৪১ হাজার ২৪৮ জন, পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ।
এর আগে, গত ২০ জুলাই ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হলেও প্রকাশ-সংক্রান্ত প্রস্তুতি সময়মতো শেষ না হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
চলতি বছরের এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিল ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পরিচালনার জন্য সারা দেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্র এবং ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হয়েছিল।
যেভাবে ফল জানা যাবে
পরীক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, অভিন্ন দুটি ওয়েবসাইট eduboardresult.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd, নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মুঠোফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন।
এসএমএসে ফল জানতে মেসেজ অপশনে গিয়ে SSC লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং পরীক্ষার বছর লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যাবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ক্ষেত্রে এসএমএসের ফরম্যাট হবে SSC DHA ROLL YEAR। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার্থীদের SSC MAD ROLL YEAR এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের SSC TEC ROLL YEAR লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। প্রতিটি এসএমএসের জন্য ১ টাকা ৩৯ পয়সা চার্জ প্রযোজ্য হবে। এ চার্জের মধ্যে সব ধরনের কর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া এসএমএসের মাধ্যমে ১৬২২২ নম্বরেও ফল জানা যাবে।
আরও পড়ুন>>>
এসএসসি ফলাফল: ৩১২ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ
এসএসসিতে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫
এসএসসির ফলে এবারও এগিয়ে ছাত্রীরা
এসএসসিতে বিদেশকেন্দ্রে পাসের হার ৮৮.০৬ শতাংশ
এসএসসির খাতা পুনঃপরীক্ষণের সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা: শিক্ষামন্ত্রী
এসএসসিতে মানবিক বিভাগের অর্ধেকের বেশিই অকৃতকার্য


