এত দিন এসএসসি-এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় ফল পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ থাকলেও মূলত উত্তরপত্রে নম্বর যোগ-বিয়োগ বা কোনো প্রশ্নের নম্বর দেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হতো। এবার সেই নিয়মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এখন থেকে খাতা শুধু পুনঃনিরীক্ষা নয়, সম্পূর্ণ পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন।
সোমবার সচিবালয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেক সময় খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ভুল হতে পারে। আগে বোর্ডের আইনে খাতা পরিদর্শন বা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ ছিল না। তবে এখন সেই আইন সংশোধন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যেসব শিক্ষার্থী খাতা পুনঃপরীক্ষণের জন্য আবেদন করবে, তাদের সম্পূর্ণ উত্তরপত্র পুনরায় পরীক্ষা করা হবে। কোথাও কোনো ভুলত্রুটি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ক্ষেত্রে আবার মূল্যায়ন করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অবশ্যই পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। একটি কমিটির সামনে খাতা পর্যালোচনা করা হবে। কোনো শিক্ষার্থীকে প্রাপ্য নম্বর না দেওয়া হলে বা মূল্যায়নে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধন করা হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার প্রাপ্য নম্বর পাবেন বলেও জানান তিনি।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, আগামী ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে।
আবেদন করতে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করতে হবে। এরপর মোবাইল নম্বর দিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ হলে ওই নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।
আবেদনের সময় শিক্ষার্থীরা এক বা একাধিক বিষয় নির্বাচন করতে পারবেন। প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি দিতে হবে। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে।
ফি বিকাশ, নগদ ও সোনালী সেবার মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধের পর আবেদন পোর্টালে ফিরে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
ফি দেওয়ার পর নতুন কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই প্রক্রিয়ায় তা করা যাবে। তবে নতুন করে মোবাইল নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। ফি পরিশোধের আগে আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের সুযোগও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘মুছে ফেলুন’ অপশনে গিয়ে নির্বাচিত বিষয় বাদ দিয়ে নতুন বিষয় নির্বাচন করা যাবে।
তবে একবার ফি জমা দেওয়ার পর আবেদন করা বিষয় বাতিল করা যাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই পরিশোধ করা ফি ফেরত দেওয়া হবে না।
শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, পুনঃনিরীক্ষণের জন্য কোনো ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ করা হবে না। অনলাইন পদ্ধতিতেই আবেদন করতে হবে।


