রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় ছিনতাইয়ের পর চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর পর তার পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। ওই যুবকের নাম হাফিজুর রহমান (২৫)। তিনি গাজীপুরের একটি রিসোর্টে চাকরি করতেন। হাফিজুরের বাড়ি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরচিংগুরি গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত রহমান শেখ।
বুধবার সন্ধ্যায় তিনি ছিনতাইয়ের শিকার হন।
নিহতের গ্রামের প্রতিবেশী মো. জুয়েল জানান, গাজীপুরের জয়দেবপুরে একটি রিসোর্টে চাকরি করেন হাফিজুর। তিনি এক সন্তানের বাবা। বুধবার ছুটিতে গাজীপুর থেকে বাগেরহাট যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলেন। সাধারণত জয়দেবপুর থেকে তিনি ট্রেনে করে ঢাকার কমলাপুর আসেন। এরপর সায়দাবাদ থেকে বাসে করে গ্রামের বাড়িতে যান। বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর শুনতে পান তারা। পরবর্তীতে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে ঢাকা মেডিকেলে হাফিজুরের মরদেহ শনাক্ত করেন।
ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পথচারী মো. ফয়জুল্লাহ জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুর্মিটোলা হাসপাতালের পাশে রেললাইনে চিৎকার শুনতে পান তিনি। সেখান দিয়ে তিনি (ফয়জুল্লাহ) অফিস শেষ করে বাসায় ফিরছিলেন। তখন এগিয়ে গিয়ে দেখেন, রেললাইনের পাশে ওই যুবক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তবে কোন কথা বলতে পারছেন না। তখন তারা কয়েকজন পথচারী মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করেন। তবে প্রকৃত ঘটনাটি কি ঘটেছিল সেটি ভুক্তভোগীর মুখ থেকে কিছু শোনা যায়নি।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনদের কাছ থেকে যতটুকু শুনা গেছে, কমলাপুরগামী একটি ট্রেনের ছাদে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিলেন ওই যুবক। তার ব্যাগ, মোবাইল, মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ঢাকা রেলওয়ে থানার (কমলাপুর) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জয়নাল আবেদীন জানান, কুর্মিটোলা এলাকায় ট্রেন থেকে পড়ে এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার পরিচয় সনাক্ত হয়েছে। তবে তাকে ফেলে দেওয়া হয়েছে কিনা বা তিনি কীভাবে পড়েছেন সে বিষয়ে এখনও কিছুই নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।


