প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে শিশুদের সার্বিক বিকাশ অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত শৈশব, নৈতিক, আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সুদৃঢ় অঙ্গীকার।’
শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার পাঠানো এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার ‘শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি’ উদযাপিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী, ‘প্রতিটি শিশুই একেকটি ফুল। প্রতিটি শিশুই আগামী দিনের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা। কবি গোলাম মোস্তফা যেমন বলেছিলেন, ভবিষ্যতের লক্ষ্য আশা মোদের মাঝে সন্তরে, ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।’
বাণীতে তিনি বলেন, ‘আজকের একটি ছোট্ট শিশুর মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে আগামী দিনের পথপ্রদর্শক, অভিভাবক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী কিংবা দেশের চালিকাশক্তি। তাই শিশুদের সঠিক যত্ন, স্নেহ ও শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তোলা সবার পবিত্র দায়িত্ব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে।’
৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ৬-৮ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হবে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী ও শিশু অধিকার দিবস ২০২৬।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নিষ্পাপ শিশুদের হাসিমাখা মুখই নতুন বাংলাদেশের আশা ও অসীম সম্ভাবনার প্রতীক। প্রতিটি শিশুর ভেতরে লুকিয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতাকে প্রস্ফুটিত করার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া আমাদের নৈতিক, সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ব।’
শিশুদের কল্যাণ এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ১৯৭৮ সাল থেকে ‘জাতীয় শিশু পুরস্কার’ প্রতিযোগিতা প্রবর্তন করে।
শিশুদের নিরাপদে বেড়ে ওঠা এবং তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। শিশুশ্রম নিরসনে ১৯৯৪ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার আইপিইসি প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষায় তার ভূমিকা অনন্য।
তিনি বলেন, ‘অস্বীকার করার উপায় নেই, আমাদের সামনে এখনো শিশুশ্রম, সামাজিক সহিংসতা, বাল্যবিয়ে ও বৈষম্যের মতো চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এসব সামাজিক ব্যাধি দূরীকরণে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। আমি বিশ্বাস করি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ক্রীড়া, শিল্প-সাহিত্যসহ নানা ক্ষেত্রে আমাদের আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশকে বিশ্বদরবারে এক নতুন উচ্চতায় আসীন করবে।’
শিশু অধিকার দিবস উপলক্ষে তিনি দেশের সব শিশু, অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিশুকল্যাণে নিয়োজিত সব ব্যক্তি ও সংস্থাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনও জানান প্রধানমন্ত্রী।


