আদালতে হাজিরা শেষে গাজীপুরে কারাগারে নেওয়ার পথে শীর্ষ মাদক কারবারি পিচ্চি রাজা পালানোর ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পাঁচ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবার সকালে জিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ কমিশনার জানান, কারাগার থেকে আসামি আদালতে আনা নেওয়ার সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজন উপ-সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (সশস্ত্র), এক নায়েক ও তিনজন কনস্টেবলসহ মোট পাঁচজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া উপপুলিশ কমিশনারের (সদর দপ্তর) নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, রোববার রাতে আদালতে হাজিরা শেষে গাজীপুরে কারাগারে নেওয়ার পথে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে পালিয়ে যান ‘শীর্ষ মাদক কারবারি’ পিচ্চি রাজা। তিনি ২৫ মামলার আসামি। পুলিশের খাতায় ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার ‘শীর্ষ মাদক কারবারি’ হিসেবে চিহ্নিত তিনি।
কারা অধিদপ্তরের জেলার মাসুদ হাসান জুয়েল বলেন, গাজীপুর থেকে তাকে ঢাকার আদালতে হাজিরা দিতে আনা হয়েছিল। হাজিরা শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের নাওজোড় হাইওয়ে থানার কাছে তিনি পুলিশকে টয়লেটে যাওয়ার কথা বলেন। এরপর পুলিশ তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে টয়লেটে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তিনি পালিয়ে যান।
গত ১৯ মে নেপাল থেকে ফেরার পর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন তার সঙ্গে তার স্ত্রী ও শ্যালকও ছিলেন।
এর আগে, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর একবার পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করার তথ্য দিয়েছিল পুলিশ।
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১-এর সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ওই আসামিকে রোববার সকালে কোর্ট পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আদালতে হাজিরা শেষে কারাগারে ফেরার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যান তিনি।


