নড়াইলে নারীর ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার নাম মো. ওমর ফারুক (৩০)।
ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের দায়ের মামলায় শনিবার বিকালে অভিযুক্তকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ওমর ফারুক কালিয়া উপজেলার বড় কালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত ‘মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক (চুক্তিভিত্তিক) হিসাবে কালিয়াতে কর্মরত।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ফারুক এক নারীর ছবি, ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া আইডি খোলেন। ওই ভুয়া আইডি ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন ধরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন ও বিভিন্ন অজুহাতে সহযোগিতা চেয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি।
ভুক্তভোগীর নিকটস্থ স্বজন, বন্ধু বান্ধবদের কাছে বিপদের কথা বলে সহযোগিতার জন্য টাকা চাইছিলেন অভিযুক্ত ফারুক। আর বিশ্বাস অর্জনে পরিবারের সঙ্গে তোলা ছবির সহায়তা নিচ্ছিলেন।
এক পর্যায়ে ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর ভাইয়ের কাছে ১০ হাজার টাকা সহযোগিতা চান ফারক। সেই টাকা নিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় এক এজেন্টের দোকানের নম্বর ব্যবহার করেন তিনি।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা ৬ মিনিটে প্রথম দফায় ফারুক ওই এজেন্টের দোকানে ভুক্তভোগীর ভাইয়ের পাঠানো টাকা আনতে যান। দোকানির ব্যস্ততায় দ্বিতীয় দফায় ৭টা ২৬ মিনিটে গিয়ে সেই টাকা তোলেন তিনি।
পরে ভুক্তভোগীর পরিবার প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে লিখিত অভিযোগ করেন নড়াইলের কালিয়া থানায়। অভিযোগের সূত্র ধরে পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে।
এ বিষয়ে কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইদ্রিস আলী বলেন, ‘ভুক্তভোগী এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত ওমর ফারুককে শনাক্ত করে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অভিযুক্তের মোবাইল ফোনে তার প্রতারণার আলামত পাওয়া যায়। ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’


