ঢাকাকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি ঐতিহাসিক স্থাপনা ও নগর ঐতিহ্য সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট।
সোমবার পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী নর্থব্রুক হল (লালকুঠি) এবং সংলগ্ন জনসন হল পাঠাগারের সংস্কারকাজ পরিদর্শন শেষে এক সভায় তিনি এসব বলেন।
জুট বলেন, ‘বিশ্বমানের শহর গড়তে নিজেদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধরে রাখা জরুরি। নগরবাসীকে তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য পৌঁছে দিতে ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।’
শহর আধুনিকায়নের প্রয়োজনে পুরোনো স্থাপনা ভেঙে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে অতীতের স্মৃতি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বহনকারী স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।’
লালকুঠি ও জনসন হল পাঠাগারের সংস্কারকাজের প্রশংসা করে জুট বলেন, পুনর্বাসন ও সংরক্ষণের কাজটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে করা হয়েছে। সংস্কারের সময় ভবনটির ভিত্তি প্রাথমিকভাবে ধারণার চেয়েও গভীরে থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে প্লাজা খননের মাধ্যমে ভবনটির ভিত্তিকে মূল সমতলে ফিরিয়ে আনা হয়।
ভবনের চারপাশের সিঁড়ি, ল্যান্ডস্কেপিং, জানালার ঐতিহ্যবাহী কাঠামো এবং পুরোনো ইটের গাঁথুনি পুনরুদ্ধারের কাজও যথাযথভাবে করা হয়েছে, বলেন তিনি।
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা নীতিমালা মেনে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সরাসরি সম্পৃক্ত না করলে এ ধরনের উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতো না বলেও মনে করেন তিনি।
এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, লালকুঠির সংস্কার পুরান ঢাকাকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য উন্মুক্ত স্থান তৈরি এবং এটিকে একটি পাবলিক স্পেস হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সেখানে নিয়মিত সাহিত্যসভা, চিত্রপ্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক জনসন হল পাঠাগারটি গবেষক ও পাঠকদের জন্য নতুনভাবে উন্মুক্ত করা হবে।’
প্রশাসক জানান, মূল সংস্কারকাজ শেষ হলেও কিছু আনুষঙ্গিক কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলো ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থায়নে সম্পন্ন করা হবে। স্থাপনাটির দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থাপনা উইংও গঠন করা হয়েছে।
পরিদর্শনের সময় ঢাকার অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নে নতুন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা চায় ডিএসসিসি। জবাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জুট বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী। তবে নতুন ঋণ বা অর্থায়নের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয় এবং দেশের কোথায় কীভাবে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্তও মন্ত্রণালয় নেয়।’
উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘ঢাকা সিটি নেইবারহুড আপগ্রেডিং প্রজেক্ট’-এর আওতায় ২০২৩ সালের ১ জুন লালকুঠির সংস্কারকাজ শুরু হয়। কোভিড-১৯ মহামারি, প্রশাসনিক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে প্রকল্পটির কাজ শেষ করা হয়েছে।


