কারিগরি ত্রুটির কারণে মাত্র দুই দিন চালু থাকার পর চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) ইউরিয়া উৎপাদন আবারও বন্ধ হয়ে গেছে।
গ্যাসসংকটের কারণে ছয় মাস বন্ধ থাকার পর রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাটিতে ১৫ সেপ্টেম্বর উৎপাদন শুরু হয়েছিল। তবে আরসি পাম্পে সিল লিকেজ ধরা পড়ায় বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় ৪টার দিকে উৎপাদন আবার বন্ধ হয়ে যায়।
সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের প্রধান উত্তম চৌধুরী যান্ত্রিক সমস্যার কারণে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আরসি পাম্পে সিল লিকেজ ধরা পড়ায় উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে। ত্রুটি সারাতে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে।’
অপর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের কারণে কারখানাটি টানা ছয় মাস উৎপাদনের বাইরে ছিল। গত ২৫ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু হওয়ার পর উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি হিসেবে কারখানায় রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শুরু হয়।
রক্ষণাবেক্ষণ শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর ভোর প্রায় ৫টার দিকে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। প্রায় দুই দিন উৎপাদন চলার পর নতুন করে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কারখানাটি আবার বন্ধ করতে হয়।
পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকলে সিইউএফএলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন করা যায়। গ্যাসসংকটের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কারখানাটিতে সর্বশেষ এ বিঘ্ন উৎপাদনের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পূর্ণ সক্ষমতায় কারখানাটি চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ থেকে ৫ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কাঁচামাল ও জ্বালানি হিসেবে সিইউএফএল পুরোপুরি প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলেই উৎপাদন বন্ধ করতে হয়।
সিইউএফএল সূত্রে জানা গেছে, জাপানের কারিগরি সহায়তায় সরকার ১৯৮৭ সালের ২৯ অক্টোবর আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় কারখানাটি স্থাপন করে। কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত কারখানাটির প্রাথমিক দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ছিল ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া এবং বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ছিল ৫ লাখ ৬১ হাজার টন।
সময়ের সঙ্গে কারখানাটির কার্যকর উৎপাদনক্ষমতা কমেছে। বর্তমানে পুরোপুরি চালু থাকলে এখানে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন করা সম্ভব।


