ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগের ঢাকায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি ঘিরে কূটনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। শুক্রবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৪৫ মিনিট অবস্থান করেন তিনি।
চার্টার্ড ফ্লাইটে জার্মানির উদ্দেশে যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেন তোবগে। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
ভুটানের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ১৬ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর ভুটান সফরের প্রেক্ষাপটে তোবগের ঢাকা সফর নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক মহলে কেউ কেউ ধারণা করছেন, তিনি ভারতের কোনো বার্তা নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন।
তবে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লির কোনো বার্তা ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন, এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
আবদুল মঈন খান বলেন, ‘তোবগের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে। এ সময় সাধারণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় যাত্রাবিরতিতে অস্বাভাবিক কিছু নেই।
তিনি বলেন, ‘পারো বিমানবন্দরে জ্বালানি নেওয়া ও অন্যান্য সুবিধা পর্যাপ্ত নয়। বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি হওয়ায় ভারতের তুলনায় এখানে যাত্রাবিরতি তাদের জন্য বেশি সুবিধাজনক।’
ওই কর্মকর্তা জানান, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকও গত মাসে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার পথে বাংলাদেশের বিমানবন্দরের ট্রানজিট সুবিধা ব্যবহার করেছিলেন।
ভুটান ভারতের বার্তা বহনের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে কিনা, জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা বলেন, এমন কোনো মাধ্যম প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, ‘দিল্লিতে আমাদের মিশন আছে, ঢাকায় ভারতের মিশন আছে। আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। ভারত কোনো বার্তা পাঠাতে চাইলে আনুষ্ঠানিক মাধ্যমেই পাঠাতে পারে। তৃতীয় কোনো পক্ষের প্রয়োজন নেই।’
এদিকে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শেরিং তোবগের বৈঠক হতে পারে।
বৈঠক হলে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার সহযোগিতার বিষয়ও থাকতে পারে।


