পাবনার সাঁথিয়ায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ (৫৫) হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত রেজাউল করিম প্রামাণিক ওরফে বাঘাকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। একই সময়ে খুলনা মহানগরীর লবণচরা এলাকা থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান বাহিনীটির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, ৭ সেপ্টেম্বর পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ডাঙ্গামাণু গ্রামের স্থানীয় পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ নিখোঁজ হন। পরদিন সকালে মিয়াপুর মিনার পাড় এলাকার একটি পুকুরে তার রক্তাক্ত মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার পর মরদেহ পুকুরে ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজন সাঁথিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তে চারজন সন্দেহভাজনের সন্ধান পায় পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এসআরবির দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে চারজনের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।
তবে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান অভিযুক্ত রেজাউল করিম প্রামাণিক ওরফে বাঘা নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এসআরবি-১১ ও ১২-এর যৌথ আভিযানিক দল নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল নিজেকে নিষিদ্ধ ‘সর্বহারা’ গ্রুপের নেতা বলে দাবি করেছেন। ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজের কাছে থাকা মাত্র ২৫ হাজার টাকার লোভে চারজন মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন রেজাউল।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনার লবণচরা এলাকায় অভিযান চালায় এসআরবি-৬-এর একটি বিশেষ দল। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা গুলি ও তিন রাউন্ড সীসা গুলিসহ মো. ডালিম খান, মো. রানা ও আব্দুল্লাহ আল নোমান ওরফে নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তার ডালিম খানের পিসি-পিআর পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে লবণচরা থানায় অস্ত্র ও সহিংসতাসহ বিভিন্ন অপরাধে সাতটি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
এসআরবি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


