ইসলামী ব্যাংক: দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক

ইসলামী ব্যাংক: দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক
ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ছবি: ভিডিও থেকে
Advertisement
Advertisement

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার সকালে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ফোরামের সদস্যদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষ দাবি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে চট্টগ্রামের পটিয়া অঞ্চল থেকে আসা কয়েকজন সাবেক কর্মী চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান নেন। এ সময় সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরাও সেখানে অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটি থেকে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

গ্রাহক ফোরামের সভাপতি নুর উন নবী মানিক দাবি করেন, সংঘর্ষে তাদের পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরেছেন।

তিনি বলেন, ‘অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র করতে তারা অবস্থান নিয়েছেন। আজ যখন শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি, তখন পুলিশের ছত্রছায়ায় আমাদের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।’

হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত সাবেক কর্মী শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, তাদের অন্তত ২৫ জন হামলায় আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, তারা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। সেখানে উপস্থিত হওয়ার প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা তাদের ওপর হামলা চালান। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
শহিদুল ইসলামের দাবি, আহত ২০ থেকে ২৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

পুলিশ জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষ অবস্থান নেয়। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রথমে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুতরা অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার সাকিবুল আলম ভূইয়া বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিকাল ৩টার দিকে মতিঝিল থানার ডিউটি অফিসার সোনিয়া পারভীন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা অনেকেই চলে গেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এর আগে রোববারও ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা। পরে সেখানে ছুটে আসেন জামায়াতপন্থি গ্রাহকদের প্লাটফর্ম ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’র সদস্যরা। দুই পক্ষ সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিলেও উত্তেজনা তৈরি হয়। তাদের মাঝে অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরে দুই পক্ষই নিজেদের দাবি-দাওয়া সংবলিত স্মারকলিপি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা বিভাগের কাছে দিয়ে চলে যায়।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখলের পর তৎকালীন সরকারঘনিষ্ঠ এস আলম গ্রুপ পরীক্ষা ছাড়াই ব্যাংকটিতে প্রায় ১০ হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়। অভিযোগ আছে, তাদের অনেকে মূল সনদ ছাড়াই চাকরি পান। এসব কর্মকর্তার বেশির ভাগ চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার।

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এসব কর্মকর্তাকে পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে তাদের বেশির ভাগই পরীক্ষায় অংশ নেননি। এ কারণে প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা চাকরি হারান। তারাই বিভিন্ন সময় আন্দোলন করে আসছেন বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক সব কর্মকর্তার সনদ যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে। এরপর চাকরিচ্যুত কর্মকর্তারা আবার মাঠে নামেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad