চট্টগ্রামে এক তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। বুধবার ফেনী ও চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন তোফাজ্জল হোসেন (৩৬) ও তার সহযোগী মো. মানিক (২৭)।
র্যাব জানিয়েছে, ভুক্তভোগী ওই তরুণী চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। ২০২৩ সালে বিবাহবিচ্ছেদের পর তোফাজ্জলের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে বিয়ের কথা বলে তোফাজ্জল তাকে জোরারগঞ্জ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ওই সময় গোপনে তরুণীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখা হয়।
পরবর্তীতে তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে তোফাজ্জল তাকে মারধর ও নির্যাতন শুরু করেন। পরে তরুণী ওই এলাকা ছেড়ে অন্য জায়গায় থাকতে শুরু করলেও রক্ষা পাননি। তোফাজ্জল তার নতুন ঠিকানা খুঁজে বের করে আবারও শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ দেন। রাজি না হওয়ায় আগের ধারণ করা ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।
তদন্তে জানা গেছে, তোফাজ্জল তার সহযোগী মানিককে সেই আপত্তিকর ভিডিওগুলো দেন। গত ৮ এপ্রিল তারা ওই ভিডিও তরুণীর মোবাইলে পাঠিয়ে তাকে হোটেলে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করেন। এতে রাজি না হলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ওই তরুণী বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, বুধবার দুপুরে ফেনীর মহিপাল থেকে মূল আসামি তোফাজ্জলকে এবং রাতে পতেঙ্গা থেকে সহযোগী মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দুজনকে জোরারগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


