জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. জোবায়েদ হোসাইন হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা এবং অন্তরঙ্গ ছবি-ভিডিও ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।
গত ৩০ জুন বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে নিহতের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯), তার প্রেমিক মাহির রহমান (১৯) এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লানকে (২১) অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মাহির ছিলেন মূল হামলাকারী, বর্ষা হত্যার পরিকল্পনাকারী এবং আয়লান সহযোগী।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলেও পরে মাহিরের সঙ্গে তার সম্পর্ক পুনরায় শুরু হয়। এ সময় জোবায়েদের কাছে থাকা অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তদন্তে মোবাইল ফরেনসিক, সিসিটিভি ফুটেজ, ডিএনএ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।
পুলিশের দাবি, গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে হত্যার পরিকল্পনা শুরু হয়। নজরদারি, ঘটনাস্থল রেকি, অস্ত্র সংগ্রহ ও গতিবিধি অনুসরণের পর ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় টিউশনি শেষে বের হওয়ার সময় জোবায়েদকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
জোবায়েদ হোসাইন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তার বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন।


