দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনাকে অনভিপ্রেত এবং দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি অনভিপ্রেত এবং দুঃখজনক ঘটনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে ‘
এদিকে দিল্লি বিমানবন্দরে হেনস্তার শিকার হওয়ার পর সোমবার সকালে জাহেদ উর রহমান ঢাকায় ফিরে এসেছেন। বেলা সোয়া ১১টায় শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পৌঁছানোর পর জাহিদ ভিআইপি গেট দিয়ে বের হয়ে যান, তবে তিনি গণমাধ্যমের সাথে কোনো কথা বলেননি।
দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সূত্র জানায়, জাহেদ উর রহমান ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে যোগ দিতে ভারতের রাজধানীতে গিয়েছিলেন। কিন্তু রোববার রাতে দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাকে হেনস্তা করে।
সূত্র জানায়, জাহেদ উর রহমান সবুজ পাসপোর্ট এবং সার্ক ভিসা নিয়ে ভ্রমণ করছিলেন। দিল্লির ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা শুরুতে এই ভিসা গ্রহণ করতে রাজি হননি। সে সময়ে ঢাকা ফেরার কোনো সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় ফিরতে পারেননি। এর ফলে তিনি দিল্লি থেকে প্রথমে কলম্বো যান এবং সেখান থেকে ঢাকায় আসেন।
রোববার টাইমস অব বাংলাদেশ-এর সাথে আলাপকালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জাহেদ উর রহমানকে প্রবেশাধিকার না দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, জাহেদ সবুজ পাসপোর্ট এবং সার্ক স্টিকার নিয়ে ভ্রমণ করলেও তার কাছে কোনো ভারতীয় ভিসা ছিল না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের কর্মকর্তাদের ভারত ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করার জন্য এটিকে একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তারা আরও বলছেন, এই ঘটনা স্পষ্ট করে যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সাথে ভারতের বর্তমান সম্পর্ক খুব একটা উষ্ণ নয়। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা ঘটনা রয়েছে কি না, তা আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।


