দুবাইয়ের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। আদালত তাকে তিন মাসের জামিন দিয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বেনজীরের জামিন বাতিলের জন্য আরব আমিরাতে ল’ ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে।
এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এক মামলায় ইন্টারপোলের জারি করা রেড নোটিশের ভিত্তিতে গত ১২ জুন দুবাইয়ের একটি শপিং মল থেকে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার দুপুরে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমির এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা সাবেক আইজি বেনজীরের জামিন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রশ্ন করেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি স্টেজে বসে এ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন। স্বরাষ্ট্র সচিব কথা বলেছেন আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, দুবাইয়ে বেনজীরের জামিন বাতিলের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ল’ ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে। তারা এই জামিন বাতিলের জন্য কাজ করবে। বেনজীরের জামিন বাতিল করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ।
২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন বেনজীর আহমেদ। তিনি ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ছিলেন র্যাবের মহাপরিচালক। এ ছাড়া তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
গোপালগঞ্জের সন্তান বেনজীর ছিলেন পুলিশ বিভাগের আলোচিত কর্মকর্তা। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে যুক্তরাষ্ট্র ‘গুরুতর’ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব ও এর সাবেক-বর্তমান ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নাম ছিল। অথচ এর কিছুদিন পরে তিনি বিনা বাধায় সফর করেন যুক্তরাষ্ট্র।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলেই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এসব অভিযোগের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিন মাস আগে তিনি সপরিবারে দেশ ত্যাগ করেন। সেই থেকে বিদেশে গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন বেনজীর। পরবর্তীতে দুদকের মামলার ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।


