একটি দল ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করছে, অভিযোগ বিএনপির

একটি দল ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করছে, অভিযোগ বিএনপির
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন মাহাদী আমীন। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

নির্বাচনী প্রচারে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। বিশেষ দলটির বর্তমান ভূমিকাকে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা হিসেবেও দেখছে বিএনপি।

বুধবার বিকালে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহাদী আমীনের বক্তব্যে উঠে এসেছে এসব কথা।

মাহাদী আমীন বলেন, ‘২০০১২০০৬ সাল পর্যন্ত যে দলটি নিজেই সরকারের অংশ ছিল। যেখানে তাদের দুজন মন্ত্রী বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যও ছিলেন। সরকারে থাকা অবস্থায় তখন দুর্নীতির বিষয়ে তাদের কোনো মন্তব্য শোনা যায়নি। কিন্তু বর্তমানে তারা নির্বাচনী মাঠে এসে বিএনপিকে নিয়ে ফ্যাসিবাদী প্রোপাগান্ডার সেই ধারাবাহিকতাকে ধরে রেখেছে। আমরা এই ভূমিকাকে রাজনৈতিক দ্বিচারিতা হিসেবে দেখছি।’

নিজের বক্তব্যে রাজনৈতিক দলটির নাম উচ্চারণ না করলেও বাকি বিবরণ অনুযায়ী, বিএনপি এখানে জামায়াত ইসলামকেই ইঙ্গিত করছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে জামায়াতও সহযোগী হিসেবে সরকারে ছিল। মন্ত্রিসভায় ছিলেন জামায়াতের নেতারাও।

কেবল মাহাদী আমীন নন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তার জনসভায় জামায়াতকে ইঙ্গিত করে ‘একটি দল’ উল্লেখ করে নানা সমালোচনা করছেন, জানাচ্ছেন অভিযোগও। জামায়াত ধর্মকে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বলেও গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকবার অভিযোগ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন

সংবাদ সম্মেলনে মাহাদী আমীন বলেন, ‘আজ স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, নির্বাচনী প্রচারে ভোট চাইতে গিয়ে সেই নির্দিষ্ট দলটি ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার, জান্নাতের প্রলোভন, কোরআন শরীফে শপথ করানো , এমনকি বিকাশ নম্বরে টাকা দেওয়ার বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে যারা নিজেরাই টাকা দিয়ে ভোটারদের ভোট কেনার চেষ্টা করছে আবার তারাই যখন দুর্নীতির গল্প শোনাচ্ছে সেটি তাদের তথাকথিত সততাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।’

এসময় নির্বাচন আচরণ বিধি মেনে চলার জন্য দেশে ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াত ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতিদিচ্ছে এমন ইঙ্গিত দিয়ে মাহাদী আমীন বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি একটি নির্বাচনী জনসভায় সেই রাজনৈতিক দলটির আমীর বগুড়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপন এবং বগুড়া পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন। বাস্তবতা হলো এই দুটি বিষয়ই ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুমোদিত এবং জন্য প্রশাসনিক কার্যক্রম চলছে। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

‘বিদ্যমান একটি সরকারি সিদ্ধান্তকে নতুন করে দলীয় প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপন করে বগুড়াবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত কেনো তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর