হাদি হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ

হাদি হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ
শুক্রবার জুমার নামাজের পর শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল চট্টগ্রাম | ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার দিনভর বিক্ষোভে উত্তাল ছিল চট্টগ্রাম।

বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করা হয়। পাশাপাশি আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন।

দিনভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিন্ন দাবিতে অনুষ্ঠিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল মসজিদে দোয়া, বিক্ষোভমিছিল, সমাবেশ, কফিন মিছিল ও ব্লকেড।

এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ছাড়াও জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিসহ পেশাজীবীরা অংশ নেন।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর নগরীর আন্দরকিল্লা জামে মসজিদ থেকে ‘জুলাই ঐক্য’ নামে একটি সংগঠন প্রতীকী মরদেহ নিয়ে কফিন মিছিল বের করে।

মিছিলটি আন্দরকিল্লা থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জামালখানে গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় বিক্ষোভকারীরা হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

দাবি আদায়ে ব্যর্থ হলে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

একই সময়ে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ থেকে ছাত্র জনতার ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।

এতে একাত্মতা প্রকাশ করে ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ শাখা। একই স্থান থেকে খেলাফত মজলিশের নেতাকর্মীরাও আলাদা একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন।

অন্যদিকে বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত নগরীর বন্দর এলাকার স্লটগোলায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেন।

শিবিরের নেতৃত্বাধীন ছাত্র-জনতার মিছিলটি লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে দেওয়ানহাটে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সেখানে বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের অল্প সময়ের মধ্যে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে এবং হত্যাকারীদের পরিচয় প্রকাশ পায়। তবে এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

বক্তারা অভিযোগ করেন, হত্যাকারীরা সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা স্পষ্ট।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডকে তারা ভারতীয় আধিপত্যবাদের অংশ হিসেবে দেখছেন। তারা এ ঘটনার জন্য ভারতকে দায়ী করে বক্তব্য দেন এবং আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

পরে বিক্ষোভকারীরা মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের বাসভবনে আগুন দেন।

এ ছাড়া, মধ্যরাত পর্যন্ত নগরীর খুলশীতে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলে।

এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। ঘটনার পর ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সামনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad