ফের তিস্তায় পানি বাড়ায় উত্তরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

ফের তিস্তায় পানি বাড়ায় উত্তরাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা
বিপৎসীমার কাছাকাছি বইছে তিস্তা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

অব্যাহত বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ী ঢলে তিস্তার পানি আবারও বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এতে উত্তরাঞ্চলের রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধাসহ পাঁচটি জেলায় ফের বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শনিবার সকালে তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল এবং যেকোনো মুহূর্তে এটি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

এদিন সকাল ৯টার দিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও বাড়তে পারে। বিশেষত, তিস্তার পানি লালমনিরহাট এবং নীলফামারীতে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে পরবর্তী দুই থেকে তিন দিন নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মুস্তাফিজুর রহমান জানান, পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে উত্তরের পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

এর দু’সপ্তাহ আগে উজানের পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। ফলে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার ৩৪টি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। একইভাবে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীর কিছু এলাকাও এ সময় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার চরাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছিল।

আরও পড়ুন

এ সময় এসব এলাকার নিম্নাঞ্চলে রোপা আমন ও সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে যায় এবং মৎস্যচাষিদের পুকুর থেকে মাছও ভেসে যায়। এ ছাড়া, নদীর পানি বাড়ায় গঙ্গাচড়া সেতু রক্ষা বাঁধের প্রায় ৬০ মিটার অংশের ব্লক ধসে যায়। এতে সেতু সংলগ্ন রংপুর-লালমনিরহাট মহাসড়কও ভাঙনের হুমকিতে পড়েছিল।

এখনো নদী তীরবর্তী এলাকায় আমন আবাদের ভরা মৌসুম চলছে। আবার বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি পরবর্তী তিনদিন পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকতে পারে ও এর পরের দুই দিনে তা বাড়তে পারে। এ ছাড়া গঙ্গা নদীর পানি পরবর্তী পাঁচদিনে বাড়তে পারে। অন্যদিকে পদ্মার পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থেকে পরের দুই দিনে বৃদ্ধি পেতে পারে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল ৬টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহের উচ্চতা ছিল ৫২ সেন্টিমিটার। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। সে হিসেবে পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে কাউনিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহের উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৬৩ সেন্টিমিটার। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ধরা হয় ২৯ দশমিক ৩১ সেন্টিমিটার। সেক্ষেত্রে, এই পয়েন্টেও পানি প্রায় বিপৎসীমার কাছাকাছিই প্রবাহিত হচ্ছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad