বিএনপির নেতৃত্বাধীন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে ১৯৮৬ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার পৌর চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ভোটের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে প্রথমবারের মতো ঠাকুরগাঁওয়ের এই স্থানীয় নির্বাচনেই পৌরসভা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।
২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয় লাভের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফখরুল। এরপর ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
এর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন মির্জা ফখরুল। স্বাধীনতার পূর্বে বাম ঘরানার ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। স্বাধীনতার পর বিবিএস পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষকতায় যোগ দেন।
১৯৮৬ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার পৌর চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি হন।
২০০৯ সালে বিএনপির বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদ পান মির্জা ফখরুল। ২০১১ সালে তৎকালীন বিএনপি মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেন মারা গেলে তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ২০১৬ সালে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন ফখরুল। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অমায়িক ব্যবহার ও সুবচনের জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন।
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে পরবর্তীতে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি।
তার পিতা মির্জা রুহুল আমিন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক আইন সভার সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে এরশাদ সরকার ও জিয়াউর রহমানের সরকারেও একাধিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তার চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন এবং ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার মন্ত্রীসভায় আইন ও বিচার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।


