জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বিরুদ্ধে ক্যামেরা ট্রায়ালে (রুদ্ধদ্বার বিচার) সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২, এ প্রসিকিউশনের প্রথম সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। ১০ ডিসেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্যগ্রহণের সময় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যমের সেখানে প্রবেশাধিকার ছিল না। ক্যামেরা ট্রায়ালে প্রদত্ত সাক্ষ্যের বিষয়বস্তু, সাক্ষীর পরিচয় প্রকাশে ট্রাইব্যুনালের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
হানিফের বিরুদ্ধে ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্যগ্রহণের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘হানিফের বিরুদ্ধে ট্রাইবুনালে ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। এই সাক্ষীকে আসামিপক্ষ থেকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে, তাই তার নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের আইনে এ ধরনের সাক্ষ্যগ্রহণের বিধান আছে।’
গত ২৫ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করে, সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা এ মামলায় হানিফসহ চারজন আসামি। চার আসামিই পলাতক।
এ মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা।
প্রসিকিউশন সূত্র মতে, মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আন্দোলন দমনের জন্য ছাত্রলীগ যথেষ্ট-ওবায়দুল কাদেরের এমন মিটিংয়ে উপস্থিত থেকে একমত পোষণ করা, ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় একটি মিটিং করে ছাত্র জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এবং ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ঘিরে কুষ্টিয়ায় ছয়জন হত্যার শিকার হন। একই সঙ্গে আহত হন বেশ কয়েকজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাহবুব আলম হানিফসহ আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-২ এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।


