ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১, রোববার শুনানি গ্রহণ করে। প্রসিকিউশন অভিযোগ করেছে, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের দমনে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে উসকানি দেন সালমান ও আনিসুল হক।
এ সংক্রান্ত কথোপকথনের অডিও রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে শোনানো হয়েছে। আসামিপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এ রকম কোনো কথোপকথন হয়নি। বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে কথোপকথনের সত্যতা যাচাই করা হোক। তবে এ আবেদন খারিজ করেছে ট্রাইব্যুনাল। আসামিপক্ষে মুনসুরুল হক চৌধুরী শুনানি করেন। অভিযোগ গঠনের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের পরবর্তী শুনানির জন্য ৬ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়।
এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার, ষড়যন্ত্র, সিস্টেমেটিক হামলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা করেছে। মিরপুরে ১৪ জনকে হত্যা ও ৫ আগস্ট মিরপুর ২, ১০ ও ১৩ নম্বরে ১৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এসব বন্ধে আসামিরা কোনো ব্যবস্থা নেননি।
গণঅভ্যুত্থানকালে সালমান ও আনিসুলের টেলিকথোপকথনের রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে শোনানো হয়। তাতে দেখা যায়, তারা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ করছেন। আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দিতে হবে’ বলে সালমান এফ রহমানের সঙ্গে আনিসুল হক মন্তব্য করেন। তাদের এই বক্তব্য হত্যাকাণ্ড উসকানি হিসেবে ভূমিকা রেখেছে বলে ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন উল্লেখ করে।
এর আগে ২২ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের শুনানি শেষ হয়। এরপর আসামিপক্ষের শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার আসামিপক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গত ৪ ডিসেম্বর সালমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত বছর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ১৩ আগস্ট ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে সালমান ও আনিসুলকে আটক করা হয় বলে পুলিশ জানায়। পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।


