ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার দুটি আসনে বিএনপির তিন প্রার্থীর বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে করা পৃথক তিনটি লিভ টু আপিলের ওপরে রোববার আপিল বিভাগের আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
কুমিল্লা-৪ ও কুমিল্লা-১০ আসনের বিষয়ে শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ গত বৃহস্পতিবার আদেশের এই দিন ধার্য করে। আপিল বিভাগের রোববারের কার্যতালিকায় বিষয়টি আদেশের জন্য রাখা হয়েছে।
কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়াসংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ওই আসনের প্রার্থী হাসান আহমেদ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। এই আসনে বিএনপির আরেক প্রার্থী মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়া প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।
হাসনাত আবদুল্লাহ, হাসান আহমেদসহ তিন প্রার্থীর আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন বলেন, মঞ্জুরুল আহসান, মোবাশ্বের আলম ও গফুর ভূঁইয়ার পৃথক তিনটি লিভ টু আপিলের শুনানি হয়েছে। রোববার আদেশের জন্য রাখা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তাদের প্রার্থিতা বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে।
কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির মোবাশ্বের আলম তার প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের শুনানি নিয়ে ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। একই সঙ্গে তাকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে একই আসনের প্রার্থী হাসান আহমেদ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।
এই আসনে বিএনপির গফুর ভূঁইয়া দ্বৈত নাগরিক অভিযোগ করে ইসিতে আপিল করেন একই আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের প্রার্থী কাজি নুরে আলম সিদ্দিকি। ১৮ জানুয়ারি শুনানির পর গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি।
প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসির দেওয়া সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গফুর ভূঁইয়া হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি নিয়ে ২২ জানুয়ারি হাইকোর্ট রিট সরাসরি খারিজ করে দেন। প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে গফুর ভূঁইয়া লিভ টু আপিল করেন।
কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান তার প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসির সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। শুনানি নিয়ে গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রিট সরাসরি খারিজ করে। হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে মঞ্জুরুল আহসান আপিল বিভাগে আবেদন করেন। ২৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগে শুনানি হয়। এর মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি পেয়ে তিনি নিয়মিত লিভ টু আপিল করেন।


