জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের মতামতের বিপরীতে অবস্থান নিলে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। দেশের অধিকাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। এর বিরোধিতা করলে বিএনপি জনসমর্থন হারাবে।
শুক্রবার বিকালে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত সমাবেশের আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচার–এই তিনটি বিষয় বিএনপির প্রধান দাবি ছিল। ভোটারদের বড় একটি অংশ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। তাই সংস্কারের বিরোধিতা করলে রাজনৈতিকভাবে বিএনপির ক্ষতি হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট রয়েছে। পাশাপাশি কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা সাধারণ মানুষের পরিবর্তে বিএনপির নেতাকর্মীদের হাতে চলে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রত্যাশা অনুযায়ী চালু না হওয়া এবং চীন সফর থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল না আসাকে তিনি সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়া কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না। অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।
পরে জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে সমাবেশে বক্তব্য দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন। দেশে আসার কথা বললেও আসছেন না। তিনি দেশের যেকোনো স্থানে পা রাখা মাত্রই ফাঁসির রায় কার্যকর হবে।’
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এসব ঘটনার জন্য তৎকালীন সরকার দায়ী।
সমাবেশে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম সদস্য সচিব ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুসহ দলটির কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


