রমজানে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত আছে তা বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম স্থিতিশীল রাখা। বিশেষ করে রমজান মাসে এ দায়িত্বের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।’
‘আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন রোজা সামনে রেখে বিশেষ কিছু করার সুযোগ সরকারের কাছে ছিল না। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে- আমাদের হাতে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে, তা বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য পর্যাপ্ত। কাজেই কোন শঙ্কা নেই।’
শুক্রবার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের পুরো রপ্তানি ঝুড়ির ৮৫ শতাংশই একটি মাত্র পণ্যের ওপর নির্ভরশীল, যা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনতে হবে।’
মন্ত্রী জানান, গত চার-পাঁচ মাস ধরে রপ্তানিতে ক্রমবর্ধমান নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতিকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য ধারণা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যের গতি কমে এসেছে।
‘এই টালমাটাল সময়ে আমাদের বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে এবং রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। একই পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।’
সিলেট নিয়ে পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা আমি নির্বাচনী প্রচার ও ইশতেহারে উল্লেখ করেছি। যেসব বিষয় সিলেটবাসীর জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত, সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আইটি সংশ্লিষ্ট পেশার প্রসার এবং একটি এআই সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
‘আমাদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। আগামী পাঁচ বছরে প্রতিটি দিন কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অবস্থানে এগিয়ে নিতে সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবে’ বলেও জানান আব্দুল মুক্তাদির।
সিলেটের আইটি পার্কে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থান তৈরি করতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’
সিলেটে প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ নীতি-সহায়তার বিষয় নিয়ে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি আশা করেন, খুব শিগগিরই এর বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হবে।
এ সময় সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতিসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


