কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় বাবার মৃত্যুর পর পাঁচ সদস্যের পরিবারের হাল ধরেছে ১০ বছর বয়সী শিশু জুনায়েদ। ভ্যান চালিয়ে পাওয়া উপার্জনে এখন চলছে তার অসুস্থ দাদা-দাদি ও ভাই-বোনের ভরণপোষণ। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে স্থানীয় ১ নম্বর প্রাগপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এই ছাত্রের পড়াশোনা।
ঘটনাটি উপজেলার সীমান্তবর্তী আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের গড়ুরার মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত মার্চ মাসে অসুস্থ স্বামী হাবিবুর রহমানের চিকিৎসার জমানো টাকা নিয়ে তিন সন্তানকে ফেলে রোজিনা খাতুন নামে এক যুবকের সঙ্গে পালিয়ে যান জুনায়েদের মা। স্ত্রীর এই বিশ্বাসঘাতকতা ও চিকিৎসার অভাবে ভেঙে পড়া হাবিবুর রহমান গত পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন মৃত্যুবরণ করেন।
বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব পড়ে জুনায়েদের কাঁধে। তার পরিবারে রয়েছে ৬৫ বছর বয়সী দাদি সপা জান নেছা, অসুস্থ দাদা ও ১২ বছর বয়সী অসুস্থ বড় ভাই এবং এক ছোট বোন।
জুনায়েদ জানিয়েছে, বাবার রেখে যাওয়া ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনোমতে খাবার ও দাদা-দাদির ওষুধের খরচ চলছে। মা চলে যাওয়ার পর তাদের দেখার আর কেউ নেই।
জুনায়েদের স্কুলে না আসার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক শাহাবুদ্দিন জানান, পারিবারিক বিপর্যয়ের পর থেকে সে নিয়মিত স্কুলে আসছে না। তবে তাকে শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। জুনায়েদের নতুন বইগুলো এখনো প্রায় অছোঁয়াই রয়ে গেছে।
জুনায়েদের ভ্যানের যাত্রী কলেজশিক্ষক সামসুল হক বলেন, ‘ছোট বলে ওর ভ্যানে কেউ উঠতে চায় না। ওর কষ্ট দেখে আজ আমি উঠেছি। এতটুকু বয়সে ও যে দায়িত্ব পালন করছে তা অবাক করার মতো।’
জুনায়েদের দাদি সপা জান নেছা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘ঈদের দিন যখন সবাই আনন্দ করছে, জুনায়েদ তখন বাবার মরদেহ কাঁধে নিয়েছে। ওর মা শুধু টাকা নেয়নি, পুরো পরিবারকে পথে বসিয়ে দিয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাকি জানান, তিনি বিষয়টি আগে জানতেন না, তবে দ্রুত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত হৃদয়বিদারক’ উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’


