রাজধানীর মুগদায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়া হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনাকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মুগদা থানা পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের যৌথ অভিযানে বুধবার সকালে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার জয়নগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন মোকাররম মিয়া (৩৮)। বিমানবন্দর থেকে গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় না গিয়ে তিনি সরাসরি মুগদার মান্ডা এলাকার একটি বাসায় ওঠেন। ওই বাসাটি ছিল তার পরিচিত তাসলিমার বড় বোন হেলেনা বেগমের ভাড়া বাসা।
এর চারদিন পর, ১৭ মে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর তথ্যের ভিত্তিতে মুগদার মান্ডা এলাকার একটি ভবনের নিচে আবর্জনার স্তূপ থেকে সাতটি কালো পলিথিনে মোড়ানো মাথা ও এক হাতবিহীন খণ্ডিত, অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পিবিআইয়ের সহায়তায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মোকাররমের সঙ্গে তাসলিমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। এ সময়ে তাসলিমা তার কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। গত ১৪ মে টাকা ফেরত ও বিয়ের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
পুলিশের জানিয়েছে, একপর্যায়ে তাসলিমা পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মোকাররমকে অচেতন করেন। পরে তার বোন হেলেনা বেগম(৪০) ও ভাগ্নি হালিমা আক্তারের(১৩) সহায়তায় তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর লাশ খণ্ডিত করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এর আগে ১৮ মে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হেলেনা বেগম ও তার মেয়ে হালিমা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে মানিকনগর এলাকার বালুর মাঠ থেকে নিহতের বিচ্ছিন্ন মাথাও উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ঘটনায় নিহতের চাচা বাদী হয়ে মুগদা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তার তাসলিমার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


