রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ফেরির র্যাম্প ভেঙে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসের চালক ও হেলপার সুস্থ আছেন। অনেকটা অলৌকিকভাবেই প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন চালক মো. ঝন্টু আলি (৪৮) ও হেলপার মো. সাকিব (২১)। দুজনই বর্তমানে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি সুপার ডিলাক্সের একটি যাত্রীবাহী বাস সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে দৌলতদিয়ার ৭নং ফেরিঘাটে, ফেরি কবরী কনভেনশন পকেট দিয়ে ঢুকে ফেরির বিপরীত দিকে র্যাম্প ভেঙ্গে নদীতে পড়ে যায়।
ফেরিতে ওঠার আগে সব যাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বাসের ড্রাইভার এবং হেল্পারকেও জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সহায়তায় নদী থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিও উদ্ধার করা হয়।

চালক ঝন্টু আলি এবং হেলপার সাকিব দুজনেই কুষ্টিয়া জেলা সদরের আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা।
দুর্ঘটনায় প্রাণে বাঁচলেও হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এখনো আতঙ্কের ঘোর কাটেনি বাস চালক মোঃ ঝন্টু আলির। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ঘাটে গাড়িটা ফেরীতে উঠানোর সময় হঠাৎ ব্রেকটা আর কাজ করছিল না। চোখের সামনেই গাড়িটা পন্টুন পার হয়ে সোজা নদীতে চলে গেল। চোখের সামনে অন্ধকার দেখছিলাম। ভাবছিলাম আর কোনোদিন পরিবারের কাছে ফিরতে পারব না। পানির নিচে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমত আর স্থানীয় মানুষের তাৎক্ষণিক সাহসিকতায় আজ আমরা নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।’
হেলপার মো. সাকিব বলেন, ‘বাসটা যখন পানিতে তলিয়ে যাচ্ছিল, আমি বাস থেকে বের হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু স্রোত আর পানির চাপে পারছিলাম না। হঠাৎ করে আল্লাহর রহমতে ভেসে উঠি। সাতরে ভেসে উঠি। স্থানীয় ভাইদের সময়মতো দড়ি বাড়িয়ে দেওয়াটাই আমাদের বাঁচিয়ে দিয়েছে। এটা আমাদের দ্বিতীয় জন্ম।’
তাদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নাজমিন নাহার নিরা বলেন, ‘ভর্তির সময় তারা দুজনেই প্রচণ্ড মানসিক ট্রমা এবং আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। পানির নিচে থাকায় কিছুটা শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছিল। তবে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অক্সিজেন সাপোর্ট দিয়েছি। বর্তমানে তারা দুজনেই আশঙ্কামুক্ত এবং সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। ভয়ের আর কোনো কারণ নেই।’
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ মার্চ সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস ব্রেক ফেল করে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাট থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গিয়েছিল। ওই ঘটনায় মোট ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।


