ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে ঐক্য দৃঢ় করতে হবে: মাহদী আমিন

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে ঐক্য দৃঢ় করতে হবে: মাহদী আমিন
ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে জাতীয় ঐক্য দৃঢ় করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল বিএনপির নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। সেই সময় থেকে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে, সব ভেদাভেদ ছাপিয়ে গণতন্ত্রকামী প্রতিটি শক্তির একমাত্র পরিচয় হয়ে উঠেছিল–তারা বাংলাদেশের পক্ষে।

বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সৃষ্টি হয়েছিল ‘ফ্যাসিবাদ বনাম বাংলাদেশ’ এক নতুন মেরুকরণ।

বুধবার আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজ দুই বছর পূর্তিতে সেই ঐক্যের মাঝে এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দূরত্ব দৃশ্যমান। আমাদের নিজেদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক থাকতে পারে, ইতিবাচক সমালোচনা হতে পারে; তবে কোনো ধরনের অশালীন আচরণ না করেও একে অপরকে প্রশ্ন করা যায়, প্রজ্ঞা ও ইতিবাচকতার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা যায়। ভিন্নমতকে ধারণ করেই পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান যেন না ঘটে, সেই লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য দৃঢ় করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে, আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনবদ্য অধ্যায়ের সূচনা করে।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, গণমানুষের জোয়ারের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় এগিয়ে যায়। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের রক্তে রঞ্জিত এই দিন জাতীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।

ঐতিহ্যগতভাবেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিএনপির দীর্ঘ সংগ্রাম ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় পটভূমি রচনা করেছে। এই লড়াইয়ে আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দৃঢ় নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা আন্দোলনকে শক্তি ও প্রেরণা জুগিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত শক্তি ছিল সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ। নারীদের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, কৃষক এবং পোশাকশ্রমিকসহ দল-মত-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে সবাই এতে অংশ নেন। এটি ছিল মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, বাকস্বাধীনতা হরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ভোটাধিকার লুণ্ঠন ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে অদম্য প্রত্যয়ের সমন্বিত প্রকাশ।

সরকার মানুষের এই স্রোত দমাতে নির্মমভাবে গুলি চালিয়েছে, যার মধ্যে শহীদ আবু সাঈদ ও ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরামের বীরত্ব জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছে।

মাহদী আমিন জানান, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। এই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণতন্ত্রকামী শক্তির ঐক্য বজায় রাখা আজ সময়ের দাবি।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তির নয়, এর আসল নায়ক দেশের জনগণ। ১৯৭১ সালের মতো ২০২৪-এর শহীদদেরও জাতি কখনো ভুলবে না। বিগত ১৫ বছর ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফা, নির্বাচনী ইশতেহার ও সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad