পররাষ্ট্রমন্ত্রী মো. খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশ আর কখনোই ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ হবে না। জাতীয় স্বার্থ ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনের সারিতে কাজ করছে।
বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বার্ষিকী উপলক্ষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের আদর্শ এখন ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মাধ্যমে সরকারের পররাষ্ট্রনীতিকে পরিচালিত করছে। জুলাই আন্দোলনের সাফল্য ধরে রাখা আমাদের দায়িত্ব। বাংলাদেশ যেন আর কখনো কোনো শক্তিধর দেশের ওপর নির্ভরশীল ‘ক্লায়েন্ট স্টেটে’ পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। ‘আমাদের জাতীয় স্বার্থই সবার আগে। আমরা আর কখনোই ক্লায়েন্ট স্টেটের অবস্থায় ফিরে যাব না।’
তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বলতে এমন একটি রাষ্ট্রকে বোঝায়, যার নিজস্ব সরকার থাকলেও সামরিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিকভাবে অন্য একটি শক্তিশালী দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল থাকে। ফলে আন্তর্জাতিক বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে।
২০২৪ সালের আগস্টে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে খলিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে শুরুতেই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রথমত প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। তৃতীয়ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
তিনি বলেন, নানা বাধা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি লক্ষ্যই অর্জন করতে পেরেছিল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে ফিলিস্তিনের প্রার্থিতাকে সমর্থন জানিয়ে বাংলাদেশ আগে নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিল। পরে ফিলিস্তিন সরে দাঁড়ালে সাইপ্রাস একমাত্র প্রার্থী হয়ে যায়। তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশকে আবার প্রার্থী হওয়ার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম, আপনি আমাদের একটা অসম্ভব দায়িত্ব দিচ্ছেন।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অসম্ভব কাজের জন্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।’
খলিলুর রহমান বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রথম পরীক্ষাতেই সফল হয়েছে। এটি ছিল অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষা।’
তিনি বলেন, এই ঘটনা সরকারের কূটনৈতিক সক্ষমতার প্রতি আস্থার প্রমাণ। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে বৈশ্বিক পরিসরে উচ্চাভিলাষী পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নের দৃঢ়তারও প্রতিফলন।


