বাংলাদেশের গার্মেন্ট কর্মীদের প্রায় ৬৫ শতাংশ প্রথম গর্ভধারণ করেন ১৮ বছর বয়সের আগে এবং প্রতি তিনজন গার্মেন্ট কর্মীর মধ্যে দুইজন ১৮ বছরের আগেই বিবাহিত হন।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এর এক গবেষণায় এ চিত্র দেখা যায়। ‘বাংলাদেশের গার্মেন্ট কর্মীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমীক্ষা’ শীর্ষক গবেষণাটি সোমবার ঢাকায় প্রকাশিত হয়।
গবেষণায় বলা হয়, এক তৃতীয়াংশ কর্মী অন্তত একবার অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের অভিজ্ঞতা লাভ করেন, এবং প্রতি চারজনে একজন গর্ভপাত বা মাসিক নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
এটি বাংলাদেশের রেডিমেড গার্মেন্ট (আরএমজি) খাতের নারীদের ওপর পরিচালিত প্রথম গবেষণা, যা ২০২২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ঢাকা ও গাজীপুরের করাইল, মিরপুর এবং টঙ্গী এলাকায় পরিচালিত হয়। এতে মোট ৭৭৮ জন ১৫-২৭ বছর বয়সী নারী শ্রমিকের ওপর সমীক্ষা চালানো হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা প্রথমে ৪৯ শতাংশ থেকে দুই বছরের মধ্যে ৭০ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। জরুরি গর্ভনিরোধক পিল সম্পর্কে জানার হারও বেড়ে ১৫ শতাংশ থেকে ৩৯ শতাংশে পৌঁছেছে।
এ ছাড়া, গার্মেন্ট কর্মীরা সহিংসতার শিকারও হচ্ছেন, বিশেষ করে স্বামীদের কাছে এবং কর্মস্থলে। গত ১২ মাসে স্বামীদের সহিংসতা বেড়েছে এবং কর্মস্থলে মানসিক সহিংসতার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দুই বছর পরে ৪৮ শতাংশ থেকে ৫৫ শতাংশ হয়েছে।
কর্মস্থলে সহিংসতার শিকার হয়ে প্রায় কোনো নারীই আনুষ্ঠানিক সাহায্য গ্রহণ করেননি এবং যারা করেছেন তারা অধিকাংশই পারিবারিক বা বন্ধুদের কাছ থেকে সাহায্য নিয়েছেন।
গবেষণায় আরও জানানো হয়েছে, গার্মেন্ট কর্মীদের মধ্যে যাদের নয় বছরের বা তার বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে এবং যারা অপেক্ষাকৃত বড় বয়সে বিবাহিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে কিশোরী গর্ভধারণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
গবেষণায় আরও হয়, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অধিক স্বাধীনতা সহিংসতা হ্রাসে সহায়ক হতে পারে। বিশেষত, যার ফলে শারীরিক এবং মানসিক সহিংসতা কমানো যায়।
এটি গার্মেন্ট খাতের নারীদের স্বাস্থ্য, অধিকার এবং সুরক্ষা বৃদ্ধির জন্য নীতিমালা এবং কর্মসূচিগুলো পরিচালনা করতে সহায়ক প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।


