ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। তবে বৃহস্পতিবার সব ক্লাস ও পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ক্লাস-পরীক্ষাও স্বাভাবিকভাবে চলবে।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংঘর্ষ-পরবর্তী সভায় উপাচার্য আহত সব শিক্ষার্থীর চিকিৎসায় বৈষম্য না করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
বুধবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন প্রবেশপথে নিরাপত্তা বাড়ানো হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম।
এদিকে সংঘর্ষের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি ও ইনকিলাব মঞ্চ। তারা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধসহ পাঁচ দফা দাবি জানায়।
শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া অভিযোগ করেন, প্রশাসন তাদের কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য ইসমাইল হোসেন তাসিনের দাবি, কর্মসূচির শুরুতে প্রক্টরিয়াল টিম বাধা দেয়। পরে ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত অছাত্ররা বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।
গত ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্ল্যাকার্ড নিয়ে প্রবেশকে কেন্দ্র করে প্রক্টরিয়াল টিম ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জকসুর প্রতিনিধি, ছাত্রশিবির ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ পরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে জকসুর ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ ছাত্রশক্তি, ইনকিলাব মঞ্চ, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের অন্তত ৭০ জন আহত হন।


