দেশে হাম পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাম উপসর্গে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৩ জনে। এর মধ্যে সন্দেহজনক মৃত্যু হয় ৪৯৩ জনের এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয় ৯০ জনের।
দেশে নতুন করে আরও এক হাজার ৩৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হওয়া নতুন হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ৫৩ জন।
গত ১৫ মার্চ ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৬১২ জনে। ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা আট হাজার ৯৯৬ জন।
একইসময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছেন ৫৫ হাজার ৭০৫ জন এবং সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫২ হাজার ৫০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ও হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার থেকে শনিবার প্রকাশিত সবশেষ স্বাস্থ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হওয়া আটটি মৃত্যুর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ তিনজন, সিলেট বিভাগে দুইজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া জেলায় মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা জেলায় দুইজন, সিলেট জেলায় দুইজন এবং ময়মনসিংহ জেলায় দুইজন হাম উপসর্গে মৃত্যুবরণ করেছেন।
বিভাগভিত্তিক সামগ্রিক পরিসংখ্যানে আক্রান্তের দিক থেকে বরাবরের মতোই ঢাকা শীর্ষে রয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩২ হাজার ৯০৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ হাজার ২৮৭ জন এবং রাজশাহী বিভাগে এই সংখ্যা ছয় হাজার ২৮০ জন।
অন্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ছয় হাজার ২১৯ জন, খুলনায় পাঁচ হাজার ১৮২ জন, সিলেটে তিন হাজার ৪৭৩ জন, ময়মনসিংহে দুই হাজার ৯২৩ জন এবং রংপুর বিভাগে এক হাজার ৩৪০ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত রোগীর মধ্যেও ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫০১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরপরের অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম (১৯২ জন), বরিশাল (১৩০ জন), খুলনা (৭৪ জন), ময়মনসিংহ (৫০ জন), সিলেট (৪১ জন), রাজশাহী (৩৩ জন) এবং রংপুর বিভাগ (১২ জন)। একই সময়ে সর্বোচ্চ ভর্তি রোগীও ছিল ঢাকা বিভাগে (৩৫৯ জন) এবং চট্টগ্রামে ২০০ জন।


