ইনিংসের পঞ্চম বলেই পড়েছে ওপেনার তৌফিক খান তুষারের উইকেট। নাহিদ রানা এক প্রান্ত থেকে তুলে গেছেন গতির ঝড়। মোস্তাফিজুর রহমান খুলে বসেছিলেন কাটারের ঝাপি। সাথে আলিস আল ইসলাম দেখিয়েছেন রহস্য স্পিনের জাদু। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি রংপুর রাইডার্সের। মঙ্গলবার চলতি বিপিএলের এলিমিনেটরে ১১১ রানের স্বল্প পূঁজি নিয়ে শেষ পর্যন্ত সিলেট টাইটান্সকে আটকে রাখলেও ইনিংসের শেষ বলে ক্রিস ওকসের ছক্কায় ৩ উইকেটে জিতল সিলেট। এই জয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে উঠল সিলেট, বাদ পড়ল রংপুর।
৪৪ রানে প্রথম চার উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে গেলেও স্যাম বিলিংস-মেহেদী হাসান মিরাজের ৫০ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে সিলেট। শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৯ রানের। প্রথম বলে দুই রান নেন মঈন আলী। পরের দুই বল ডট খেলে ফাহিম আশরাফের গুড লেংথ ডেলিভারিতে ক্যাচ তুলে এই বাঁহাতি ব্যাটার আউট হলে জমে ওঠে লড়াই। পঞ্চম বলে সিংগেল নিয়ে ওকসকে স্ট্রাইক দেন খালেদ আহমেদ। শেষ বলে এক্সট্রা কভার দিয়ে দারুণ এক ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়ে দেন এই ইংলিশ পেসার।
রান তাড়ায় নেমে শুরুতে ধাক্কা খেলেও পারভেজ ইমন-আরিফুল হকের ৩৫ রানের জুটিতে সেই চাপ সামলে ওঠে সিলেট। যদিও প্রথম স্পেলে আলিসের করা দুই ওভারের সাথে নাহিদের তোপে ৬ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট পড়ে তাদের। আলিসের টার্নিং ডেলিভারি শেষ মুহূর্তে ছুঁয়ে যায় ১৮ রান করা ইমনের ব্যাটের কানা, সামনে ঝাপিয়ে দারুণ ক্যাচ ধরেন সোহান। নাহিদের বাউন্সারে পুল করে মিড অনে ক্যাচ তুলেছেন আরিফুল। পেছনে ছুটে গিয়ে ঝাপিয়ে ক্যাচ ধরেন মাহমুদউল্লাহ। এরপর আফিফের অফস্টাম্প উপড়ে দেন আলিস।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি রংপুর। নতুন বল হাতে ক্রিস ওকস-খালেদ আহমেদের দারুণ বোলিংয়ে ১১ রানের মধ্যেই প্রথম তিন ব্যাটারকে হারায় তারা। তাওহিদ হৃদয় অফস্টাম্পের বাইরের বল ব্যাট ছুঁইয়ে ক্যাচ দিয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমনের হাতে। লিটন দাসও ফিরেছেন খালেদের আউট সুইংয়ে ইমনের হাতে ক্যাচ দিয়ে। এর আগে ওকসের বলে আউট হওয়া ডাভিড মালানও বড় করতে পারেননি তার ইনিংস।
টপ অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে মাহমুদউল্লাহর ২৬ বলে ৩৩, খুশদিলের ১৯ বলে ৩০ রানের ইনিংসে শতরান পেরোয় রংপুর। এই দুজনকেই ফিরিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। চার ওভার বল করে ১২ রানে নিয়েছেন দুই উইকেট। খালেদ করেছেন তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। প্রথম স্পেলে দুই উইকেট নেয়া এই ডানহাতি পেসার দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে নিয়েছেন নুরুল হাসান সোহান ও ফাহিম আশরাফের উইকেট। তার দুই স্পেলেই ধসে পড়ে রংপুরের ব্যাটিং অর্ডার। চার ওভার শেষে ১৪ রানে নিয়েছেন চার উইকেট।


