তারেক রহমানকে ভোট দিলে দেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও চুরি-ডাকাতি বন্ধ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এবং ঢাকা-১৭ আসনে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, ‘এ দেশ তারেক রহমানের কাছে নিরাপদ। অন্য কারো কাছে নয়। অন্যরা দেশকে জাহান্নাম বানাবে। তারেক রহমানকে ভোট দিলে দেশ দুর্নীতি মুক্ত হবে, চাঁদাবাজি বন্ধ হবে এবং চুরি-ডাকাতিও বন্ধ হয়ে যাবে।’
শুক্রবার ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এলাকায় ঢাকা-১৭ আসনের এক নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন যুগ্ম সমন্বয়ক ফরহাদ হালিম ডোনার।
আব্দুস সালাম বলেন, বিগত সরকারের সময় চাঁদাবাজি একটি মহামারীতে পরিণত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, শেখ মুজিবের সময়ও দেশে ভয়ানক দুর্নীতি ছিল, যা জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বন্ধ করেছিলেন। একইভাবে এরশাদের সময় দুর্নীতি বেড়ে গেলে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর ধরে শুধু দুর্নীতি নয়, চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সকল ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ, দেশের অর্থনীতি এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে উদ্ধার করতে হলে তারেক রহমানকে ভোট দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, “মানি ইজ নো প্রবলেম”, তারেক রহমানও একইভাবে বলেছেন টাকার জন্য কোনো কাজ আটকে থাকবে না।’ দুর্নীতি বন্ধ হলে দেশের অর্থনৈতিক অব্যবস্থা দূর হবে বলে দাবি করেন তিনি।
ভোট প্রসঙ্গে আবদুস সালাম বলেন, দেশের মানুষ নির্বাচন চায়, কারণ নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র ফিরে আসবে। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করে নিজেদের পছন্দের লোকদের দিয়ে সরকার চালিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কতিপয় গোষ্ঠী ভোট বানচালের চেষ্টা করছে। তারা দেশকে আবার অস্থিতিশীল অবস্থায় নিতে চায়। কিন্তু ভোট বানচালের চেষ্টা কেউ মানবে না–সাংবাদিকরা মানবে না, কৃষকরা মানবে না, শিক্ষকরা মানবে না, মহিলারা মানবে না, দেশের মানুষ মানবে না।’
আব্দুস সালাম বলেন, ‘তারেক রহমান ক্ষমতায় এলে যারা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি করেছে তাদের হয় ভালো হতে হবে, নয়তো স্থান হবে জেলখানায়।’
স্বাধীনতাবিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চিহ্নিত গোষ্ঠী গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারা একনায়কতন্ত্রে আস্থা রাখে এবং দেশে গোলমাল সৃষ্টি করতে চায়।’
অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী কখনো রাজাকারদের ভোট দিতে পারে না, কারণ সেনাবাহিনী সৃষ্টি হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে।’
তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারা কি দেশকে আফগানিস্তান বানাতে চান? যদি না চান তাহলে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করুন। ধানের শীষে ভোট দেয়ার বিকল্প নেই।’
সভায় যুগ্ম সমন্বয়ক ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেত্রী ভোটের আগে হিজাব পরে নির্বাচিত হওয়ার পর ইসলাম বিদায় করার প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। একইভাবে আরেকটি গোষ্ঠী ধর্মের নামে মানুষকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের উন্নয়ন অর্থনীতির ধারার স্রষ্টা। তার উদ্যোগেই কৃষিতে স্বয়ম্ভরতা আসে, জনশক্তি রপ্তানি ও গার্মেন্ট শিল্পে বিপ্লব ঘটে। সেই উন্নয়নের ধারা খালেদা জিয়া বহুদূর এগিয়ে নিয়েছেন এবং তারেক রহমানও তা অব্যাহত রাখবেন বলে দাবি করেন তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মিজানুর রহমান, শামীম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, হারুনুর রশিদ, জাহিদুর রহমান, মোস্তফা শহীদ, জামাল হায়দার, মুত্তাকিম হোসেন, মনিরুজ্জামানসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


