গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও আগ্রাসনকে ‘গণহত্যা’ বলে ভোট দিল যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার দলের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে এবং ইসরায়েলের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক জনমত গড়ে তোলেন তারা।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী এবং লেবার দলের নেতা কিয়ার স্টারমার ও ব্রিটিশ সরকারের শীর্ষ নেতারা গাজায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ বলে মানতে নারাজ। এতে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন রাজনীতির মাঠেও তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত দলের (কমিশন অব ইনকোয়ারি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ইসরায়েল গাজায় ‘গণহত্যা’ চালিয়েছে বলে তথ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে লেবার দলের বার্ষিক সম্মেলনে গাজায় হত্যাকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ স্বীকৃতি দিতে জরুরি প্রস্তাব আনেন দলের নেতাকর্মীরা। তাদের প্রস্তাবকে দৃঢ় সমর্থন দেয় লেবারের ট্রেড ইউনিয়ন শাখাগুলো। এতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রস্তাবটি সহজেই পাস হয়।
এ সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাজ্যের রাস্তায় নেমে আসেন হাজারও ফিলিস্তিনি সমর্থক। ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠনগুলো উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানায়, এটি ব্রিটিশ সরকারের বড় পরাজয়। লেবার সরকারের উচিত ইসরায়েলের ওপর পূর্ণ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং সব ধরনের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা।’

ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি জানানো সংগঠনের (প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন) পরিচালক বেন জামাল কিয়ার স্টারমারের সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ‘আপনারা যদি এই ভোট উপেক্ষা করেন, তবে তা হবে “বাস্তবতাকে অস্বীকার” করে আন্তর্জাতিকভাবে আরও একঘরে হয়ে পড়া।’
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও উপপ্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিসহ অনেক লেবার মন্ত্রী বলেছেন, গাজায় ‘গণহত্যা’ হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করবে আন্তর্জাতিক আদালত—(আইসিজে) বা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস আদালত (আইসিসি)।
ডেভিড ল্যামি বলেন, ‘এটি বিচারকদের কাজ, রাজনীতিবিদদের নয়। আমি নিয়ম মেনে আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় বিশ্বাস করি। জনগণ গাজার দুর্ভোগ দেখে নিজেরাই পক্ষপাতিত্ব করতে পারে। এক্ষেত্রেও তারা সেটিই করেছে। তবে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। আমরা আদালতের রায়ের ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই।’
এবারের লেবার সম্মেলনে ‘গাজা ইস্যুই’ ছিল সবচেয়ে আলোচিত। সম্মেলনের শুরুতে সোমবার লেবার অর্থমন্ত্রী রেচেল রিভস বক্তৃতা শুরু করার কিছুক্ষণ পরেই ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয় ফিলিস্তিনপন্থী সমর্থকরা। গাজায় ‘গণহত্যায়’ ব্রিটেন ইসরায়েলকে অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
রিভস জবাবে বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছি। তবে এখন আমাদের মনে রাখতে হবে- আমরা শুধু প্রতিবাদের দল নই, আমরা সরকারে আছি। আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়।’
এ সময় সম্মেলনের বাইরে ফিলিস্তিনের সমর্থনে ও লেবার মন্ত্রিসভার বিরোধিতা করে বিক্ষোভে অন্তত ৬৬ জনকে আটক করে পুলিশ। তারা সবাই ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ নামের যুক্তরাজ্যে ‘নিষিদ্ধ’ একটি সংগঠনের পক্ষে বিক্ষোভ করছিল।
যুক্তরাজ্যের লেবার দলের নেতা-কর্মীদের গাজার পক্ষে জনমত গড়ে তোলায় তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শেষ করার জন্য চেষ্টা করছে, তখন যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি হামাসের পাশে দাঁড়িয়ে ‘ভুয়া গণহত্যা’ প্রচারণা চালাচ্ছে।


