সমীকরণ সহজ, ম্যাচে যে জিতবে ফাইনালের টিকেট পাবে সে। হারলে অবশ্য বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে খেলে ফাইনালে যাওয়ার আরেকটা সুযোগ পাবে বিজিত দল। তবে চট্টগ্রাম রয়্যালস সেই পথে হাঁটল না। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের দেয়া ১৩৫ রানের লক্ষ্য ৬ উইকেট আর ৩ বল হাতে রেখে চট্টগ্রাম উঠে গেল ফাইনালে।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৯ রানের প্রয়োজন ছিল চট্টগ্রামের। প্রথম বলে আমির জামালের সিংগেল, পরের বলে জায়গা বানিয়ে লং অফের ওপর দিয়ে অধিনায়ক শেখ মাহেদীর ছক্কা। রিপন মন্ডলের তৃতীয় বলে ডাবল নিয়ে ম্যাচ জয়। পুরো ম্যাচে উত্তেজনা বলতে এই শেষ ওভারের সমীকরণটাই। এছাড়া পুরো ম্যাচজুড়ে দাপট দেখিয়েছে চট্টগ্রামই।
সহজ লক্ষ্য তাড়ায় নেমে নাঈম শেখ-মির্জা তাহির বেগের ৬৪ রানের ওপেনিং জুটিতেই নির্ধারিত হয়ে যায় ম্যাচের ভাগ্য। প্রায় ১২ ওভার পর্যন্ত রাজশাহীকে ম্যাচে ফিরতে দেননি এই দুই ওপেনার। যদিও সাকলাইনের বলে ব্যক্তিগত ৩০ রানে নাঈম আউট হওয়াতে প্রথম সাফল্য পায় রাজশাহী। তিনে নেমে হাসান নওয়াজ দুই ছক্কায় ১৪ বলে ২০ রান করলে চট্টগ্রামের জয়ের পথটা আরো সুগম হয়। এরপর মির্জা তাহির যখন ৪৫ রানে আউট হন, তখন ম্যাচ অনেকটাই চট্টগ্রামের হাতের মুঠোয়।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দলীয় শতরান পেরোনোর আগেই প্রথম সাত ব্যাটারকে হারায় রাজশাহী। শরীফুল ইসলাম, শেখ মাহেদীদের চেপে ধরা বোলিংয়ে ধসে পড়ে তাদের টপ অ মিডল অর্ডার। ওপেনার তানজিদের ৪১ রানের পর আব্দুল গাফফার সাকলাইনের ১৫ বলে ৩২ বলের ইনিংস না এলে লড়াইয়ের রসদটুকুও জুটত না দলটার।
সাহিবজাদা ফারহান ১৯ বলে ২১ রানের আগ্রাসী ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করলেও বেশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পারেননি। তানভীরের বলে হাসান নওয়াজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন এই ডানহাতি ওপেনার। টপ অর্ডারে তানজিদ ছাড়া কেউই যেতে পারেননি দুই অঙ্কের ঘরে। অধিনায়ক শান্ত ফিরেছেন মাহেদীর বলে বোল্ড হয়ে। মুশফিকুর রহিম তার বলে শর্ট থার্ডম্যানে তানভীরের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন রিভার্স সুইপ করে। আকবর আলী, জিমি নিশাম আর রায়ান বার্ল সবাই আউট হয়েছেন সিংগেল ডিজিটে।
আট নম্বরে নেমে সাকলাইন শুরু করেন পাল্টা আক্রমণ। মির্জা তাহির বেগকে এক ওভারে মেরেছেন দুই ছক্কা, আমির জামালের কপালেও জুটেছে একটি। এই তিন ছক্কার সাথে আরো দুই চারে ১৫ বলে ৩২ রান করেন সাকইলাইন।


