সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে আটকে পড়া বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রার’ সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌ, সড়ক এবং রেল মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ নিয়মিত ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে।
একই সঙ্গে জাহাজে অবস্থানরত ৩১ জন নাবিক ও তাদের পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামে বিএসসি সদর দপ্তরে একটি বিশেষ ‘কন্ট্রোল সেল’ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি নাবিকদের মনোবল অটুট রাখতে অতিরিক্ত সরবরাহের মাধ্যমে উন্নতমানের খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার তিনি নাবিকদের উদ্দেশে এক ভিডিও বার্তায় তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রী জানান, কাতার থেকে স্টিল কার্গো নিয়ে বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে অবস্থানরত জাহাজটির নাবিকরা চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যেও সাহসিকতা, ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিচ্ছেন, যা জাতির জন্য গর্বের বিষয়।
এ ছাড়া জাহাজে অবস্থানরত নাবিকের প্রত্যেকের পরিবারের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, এই দুঃসময়ে সরকার তাদের পাশে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিষয়টি তদারকি করছেন ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি অবগত রয়েছে এবং সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। পাশাপাশি স্থানীয় এজেন্ট ও প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদেরও প্রয়োজনে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ভিডিও বার্তায় নাবিকদের মনোবল সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন তাদের ও তাদের পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছে এবং থাকবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সংকট উত্তরণ সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে শুক্রবার থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সাময়িকভাবে কার্গো খালাস বন্ধ থাকায় বিএসসি মালিকানাধীন ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজটি বন্দরে অবস্থান করছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, কাতারের মেসাইয়িদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টন স্টিল কয়েল নিয়ে জাহাজটি শুক্রবার জেবেল আলিতে পৌঁছায়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে কার্গো খালাস স্থগিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কার্গো খালাস বন্ধ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে জাহাজটি দ্রুত বন্দর ত্যাগ করবে।’


