যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিকে ‘অসম ও দেশবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বামপন্থী সংগঠনগুলো।
এ দাবিতে শুক্রবার বিকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, যুব ইউনিয়ন ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
সমাবেশে বক্তারা চুক্তিটিকে ‘দাসত্বের চুক্তি’ বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশের কৌশলগত সম্পদ, বিশেষ করে বন্দর, বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ তুলে এর বিরুদ্ধেও অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভ বলেন, ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ নিলেও সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির বিষয় সামনে এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত বা ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।’
তিনি বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও কূটনৈতিক নীতিতে অন্য কোনো দেশের প্রভাব গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিটি সমতার ভিত্তিতে হয়নি, বরং এটি দেশের স্বার্থবিরোধী। এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী–উভয় রাজনৈতিক দলের নীরবতাও তিনি সমালোচনা করেন।
শুভ বলেন, ‘এই “অন্যায্য ও অসম” চুক্তির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলে গণআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে তা থেকে সরে আসতে বাধ্য করতে হবে। অন্যথায় দেশ আরও গভীর অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সংকটে পড়বে।
যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, ‘রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর মুহাম্মদ ইউনূস দেশে এলেও দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন।’
তিনি দাবি করেন, প্রায় ১৮ মাসে সেই স্বার্থই নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ইউনূস তার প্রতিষ্ঠানের বিপুল অঙ্কের কর মওকুফ করিয়ে নেন এবং বিদায়ের আগে দেশকে সাম্রাজ্যবাদের অধীন করে দেওয়ার মতো চুক্তি করে যান।
তিনি বলেন, ‘এই গোলামির চুক্তি আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি।’
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে ১৪টি চুক্তি করেছে, যা জনগণের স্বার্থবিরোধী।’
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
অমিত রঞ্জন দে আরও বলেন, ‘বেশি দামে নিম্নমানের গম কিনতে হচ্ছে এবং জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির বিষয় সামনে আসছে।’ তার মতে, এই বাণিজ্য চুক্তি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


