যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক মাস পেরিয়ে গেলেও ফিলিস্তিনের গাজায় অব্যাহত আছে ইসরায়েলি হামলা, ধরপাকড় ও সহিংসতা। এর মাঝেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রেডক্রসসহ একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও স্থানীয় গাজাবাসী। সেই সঙ্গে ক্রমেই বেড়ে চলেছে নিহতের সংখ্যা।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্যের বরাতে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়, গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধে গাজায় প্রাণহানি ৬৯ হাজার ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি শিশু।
শনিবার পর্যন্ত ৬৯ হাজার ১৬৯ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যুর খবর তালিকাবদ্ধ করেছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। তাদের তথ্যমতে, গত মাসে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও অন্তত ২৪০ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি আগ্রাসনে আহত হয়েছেন অন্তত এক লাখ ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি। দখলকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে বসতি স্থাপনকারীদের হামলাও আগের তুলনায় আরও বেড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব হামলার উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা।
শনিবার উত্তর গাজায় নতুন করে এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তি গাজা যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে উল্লেখিত ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রমের চেষ্টা করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সই হওয়া শান্তি চুক্তিতে উল্লেখিত ইয়েলো লাইন ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থানের সীমারেখা। একই অভিযোগে দক্ষিণ গাজায়ও এক ব্যক্তিকে হত্যা করার দাবি করেছে আইডিএফ।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার গাজা থেকে এখনও পুরোপুরি সেনা প্রত্যাহার করেনি। তারা কেবল গাজা সিটি থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়েছে। যুদ্ধবিরতিতে নিজ নিজ ঘরে ফিরতে থাকা গাজাবাসী সীমারেখার কাছাকাছি গেলেই কোনো পূর্ব হুঁশিয়ারি ছাড়াই তাদের ওপর গুলি চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। সেই সঙ্গে খান ইউনিসে ইসরায়েলি বাহিনীর ফেলে যাওয়া এক বোমা বিস্ফোরিত হয়ে এক ফিলস্তিনি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানিয়েছে নাসের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এমন পরিস্থিতিতে গুরুতর আহতদের অবিলম্বে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে গাজা ও মিসরের মধ্যবর্তী রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতিতে এ পর্যন্ত চার হাজার ফিলিস্তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পেরেছেন। অপেক্ষায় আছেন আরও ১৬ হাজার ৫০০ জন।
শনিবার পশ্চিম তীরের দক্ষিণ নাবলুসের বেইতা শহরে জলপাই সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলা চালায় অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা। তাদের রক্ষায় স্থানীয় অধিকার কর্মী ও সাংবাদিকরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
প্যালেস্টাইন জার্নালিস্টস সিন্ডিকেট জানায়, ওই হামলায় তাদের পাঁচ সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তারা এ ঘটনাকে ‘সাংবাদিক হত্যার উদ্দেশ্যে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। একই হামলায় রয়টার্সেরও দুই কর্মী আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
জাতিসংঘের হিসাবে, গত সেপ্টেম্বর থেকে পশ্চিম তীরের প্রায় ৭০টি শহর ও গ্রামে ১২৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এসব এলাকার অন্তত চার হাজার জলপাই গাছ ধ্বংস বা উপড়ে ফেলা হয়েছে।


