জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ প্রসিকিউশনের পক্ষে জবানবন্দি দেন কাশিমপুর কারাগার-২-এর সাবেক ডেপুটি জেলার সাখাওয়াত হোসেন।
এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ পুলিশের এসআই শাহেদ জোবায়ের লরেন্সকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
এর আগে, চতুর্থ সাক্ষী হিসেবে ৮ ডিসেম্বর জবানবন্দিন দেন লরেন্স। লরেন্সের জেরা শেষে প্রসিকিউশনের পঞ্চম সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়।
তিনি কাশিমপুর কারাগার-২-এর সাবেক ডেপুটি জেলার সাখাওয়াত, জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে জেরা করা হয়। আগামী ১৭ ডিসেম্বর পরবর্তী সাক্ষীর জবানবন্দির দিন ধার্য করা হয়েছে।
১ ডিসেম্বর এই মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর, সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিনই শুনানি শেষে ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
জানা গেছে, ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণে ২০ জন সাক্ষীর তালিকা দিয়েছে প্রসিকিউশন। এ ছাড়া নথি হিসেবে তিনটি অডিও ও ছয়টি ভিডিও দেওয়া হয়।
গত বছরের ২৬ আগস্ট ইনু গ্রেপ্তার হন। সে বছরের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন ইনু। তবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়ায় নিজ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি।


