নিরাপত্তা শঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত আসে গেল ২২ জানুয়ারি। সেদিন ক্রিকেটারদের সাথে জরুরি বৈঠক শেষে সদ্য বিদায়ী অন্তবর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া আসিফ নজরুল জানান, সরকারি সিদ্ধান্তেই লিটনরা যাচ্ছেন না বিশ্বকাপে। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি আবার পাল্টা মন্তব্য করেন ক্রিকেটার ও বিসিবির সিদ্ধান্তেই নাকি বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ।
এ নিয়ে বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়ে তাকে। যদিও সেই রাতেই ফেসবুক পেইজে নিজের বক্তব্যের ব্যাখা দিয়েছেন তিনি। যদিও জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন একেবারেই ভালোভাবে নেননি সাবেক উপদেষ্টার বারবার অবস্থান বদলকে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে, আসিফ নজরুলকে সরাসরি মিথ্যুক বলেছেন এই কোচ।
আসিফ নজরুলের একেক সময়, একেক মন্তব্যের ব্যাপারে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘উনি একেবারে এমন মিথ্যা কথা বলছে, আমি ভাবতেই পারছি না। আমার আমার আমি কিভাবে ছেলেদের সামনে আসলে মুখ দেখাব?”
শিক্ষক হয়েও আসিফ নজরুল কীভাবে এমন বললেন, সেই প্রশ্ন তুলে সালাহউদ্দিন আরো বলেন, ‘উনি শিক্ষক মানুষ, আমি নিজেও তাই। শিক্ষকরা তো একটু মিথ্যা কথা কম বলে। ঢাকা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক উনি। আমার দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের একজন শিক্ষক, উনি এইভাবে মিথ্যা কথা বলবে, এটা আমরা মানতে পারছি না। সেদিন উনি কি বলে এলেন আর পরে এসে কীভাবে ইউ-টার্নটা নিল।’
গেল ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপ না খেলায় কোনো আক্ষেপ আছে কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ‘কোনো রিগ্রেট? প্রশ্নই আসে না। আমাদের কী সিদ্ধান্ত, সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা, ক্রিকেট বোর্ড। তারা নিজেরা স্যাক্রিফাইস করে, দেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার জন্য, দেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য, বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে যে ভূমিকা রেখেছে, আমার মনে হয়, এটা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
অথচ এরফ আগে ২২ জানুয়ারি ক্রিকেটারদের সাথে জরুরি বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আপনাদেরকে আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেই, সিকিউরিটি রিস্কের কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা, এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। কোনো একটা দেশের মানুষ অন্য একটা দেশে গেলে সিকিউরিটি রিস্ক আছে কি না, সেটা সরকার বিবেচনা করে দেখে। এটা অন্য কারও বিবেচনার স্কোপ নেই।’
এরপর ফেসবুক পোস্টে নিজের সর্বশেষ মন্তব্যের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলেন, ‘ বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত অবশ্যই সরকার নিয়েছে, কিন্তু এটিও তো সত্যি যে, এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়রা বিনা প্রতিবাদে মেনে নিয়েছে। আর্থিক ক্ষতি, না খেলার বঞ্চনা এবং আরো শাস্তির ভয় সত্ত্বেও তারা এটা মেনে নিয়েছে। এই হিসেবে দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও দেশের মর্যাদার স্বার্থে বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্তের কৃতিত্বের মূল দাবিদার তারাই।সাংবাদিক সম্মেলনে অপ্রস্তুত আলাপে বিষয়টি ভালো করে না বুঝিয়ে বলতে পারার ব্যর্থতা এখানে স্বীকার করে নিচ্ছি। আবারো দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিচ্ছি, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্ত বোর্ড ও ক্রিকেটাররা মেনে নিয়েছে। না হলে এই সিদ্ধান্তে অটুট থাকাটা হয়তো এতোটা সহজ হতো না।’


