১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা
২০২৬ বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোল করার পর হুলিয়ান আলভারেজের উদযাপন। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

ম্যাচের শুরুতে লিড নিয়েও তা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। এমনকি ৭২ মিনিটে সুইজারল্যান্ড ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে সুইসদের জমাট রক্ষণ ভাঙা যায়নি। তবে অতিরিক্ত সময়ে নিজেদের জাত চেনাল আলবিসেলেস্তেরা। শেষ মুহূর্তের জোড়া আঘাতে সুইজারল্যান্ডের হৃদয় ভেঙে ৩-১ গোলের মহানাটকীয় জয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল লিওনেল মেসির দল।

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে বাংলাদেশ সময় রোববার সকাল ৭টায় বিশ্বকাপের শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। এই জয়ের ফলে শেষ দল হিসেবে সেমিফাইনালে পা রাখলো আর্জেন্টিনা, যেখানে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ নরওয়েকে হারিয়ে আসা ইংল্যান্ড।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজায় আর্জেন্টিনা। যার ফল আসে ম্যাচের ১০ম মিনিটে। অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নার কিক থেকে কাছের পোস্টে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়ান অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলকে পরাস্ত করে আলবিসেলেস্তেরা এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে।

এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য কীর্তি গড়েন মেসি। বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০টি অ্যাসিস্টের মাইলফলক স্পর্শ করলেন এলএমটেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে তার সরাসরি অবদান পৌঁছালো ২৮টিতে। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা।

বিরতির পর সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া এক সুইজারল্যান্ডকে দেখা যায়। একের পর এক আক্রমণে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে সুইসদের সমতায় ফেরান দান এনদোয়ে (১-১)।

আরও পড়ুন

তবে সমতার আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই ৭২তম মিনিটে ম্যাচে ঘটে সবচেয়ে বড় নাটকীয় ঘটনা। ব্রিল এমবোলোর ওপর লিয়ান্দ্রো পারেদেস ফাউল করেছেন ভেবে প্রথমে ফ্রি-কিকের বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। তবে ভিএআর  পর্যালোচনায় দেখা যায়, এমবোলো আসলে ফাউলের অভিনয় করেছিলেন। সিদ্ধান্ত বদলে রেফারি এমবোলোকে ডাইভিংয়ের জন্য হলুদ কার্ড দেখান। ম্যাচে এটি তার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড হওয়ায় লাল কার্ড দেখে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়তে হয় এই সুইস ফরোয়ার্ডকে।

১০ জনের দল নিয়ে এরপর দুর্দান্ত বীরত্ব দেখায় সুইজারল্যান্ড। একজন বেশি থাকার সুবিধা নিয়েও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে সুইসদের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় মূল সময়ের খেলা।

অতিরিক্ত সময়ের খেলা শুরু হতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় আর্জেন্টিনা। ৯৫তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ এক বাঁকানো শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ২৬ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ। বিশ্বকাপে এটিই তার প্রথম গোল।

পিছিয়ে পড়েও ১০ জনের সুইজারল্যান্ড হাল ছাড়েনি। ম্যাচের এক পর্যায়ে প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে নেওয়া একটি জোরালো শট আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের সামনে অদ্ভুতভাবে বাউন্স করে। তবে বিশ্বসেরা এই গোলরক্ষক অসাধারণ রিফ্লেক্সে সেই নিশ্চিত গোল প্রতিহত করে আর্জেন্টিনার লিড ধরে রাখেন।

১২ বছর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ঠিক এভাবেই অ্যানহেল ডি মারিয়ার ১১৮ মিনিটের গোলে সুইজারল্যান্ডের হৃদয় ভেঙেছিল আর্জেন্টিনা। এবারও অতিরিক্ত সময়েই সুইসদের বিদায়ঘণ্টা বাজাল তারা।

ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে (১২০+১ মিনিটে) দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে সুইজারল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন লাউতারো মার্টিনেস। তার চোখধাঁধানো ফিনিশিংয়ে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে উল্লাসে মাতে আর্জেন্টিনা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad