জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ ও গণভোট নিয়ে সমঝোতার জন্য কোনো দলের সঙ্গে আলোচনা করতে বিএনপির আগ্রহ নেই। অন্যদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার জন্য দুই সদস্যের কমিটি করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ ও গণভোট আয়োজনের সময় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছে। তা না হলে সরকার নিজেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে।
তবে সরকারের এই আহ্বানে রাজনীতির মাঠের বড় দল বিএনপির দিক থেকে কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি, বরং এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সরকারের কোর্টেই বল ঠেলে দিচ্ছেন দলটির নেতারা। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আলোচনার পর এ নিয়ে আর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন করে আলোচনার কিছু নেই। আর রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলোচনা হলেও সরকারকেই সেই উদ্যোগ নিতে হবে।
বিএনপির সিনিয়র নেতারা জানান, তারা প্রথমে গণভোটের পক্ষে ছিলেন না। পরে বিভিন্ন বিষয়ে নোট অব ডিসেন্টসহ সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন। এখন বিএনপির আশা, সরকার একই দিনে সংসদ ও গণভোট করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে। আর এটাই হবে সরকারের দিক থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত। তা না হলে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে সংসদ নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে জুলাই সনদের সুপারিশ জমা দিয়েছে। এরপর আর বিএনপির কিছু করার নেই। এখন সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে বিএনপি আশা করে সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সঙসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের ব্যবস্থা করবে।
দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘বিএনপির মতো বড় দলের সঙ্গে আলাপ না করেই সরকার রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসতে বলেছে। সরকার এটা ঠিক করেনি।’ সরকার জামায়াতে ইসলামীর পরামর্শে চলছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।
বিএনপির আন্দোলনের সঙ্গী দলগুলোও একই রকম মতামত দিয়েছে। এসব দলের মতে, সবাই এখন ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের জন্য তৈরি হয়ে আছে। এই নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন প্রায় অসম্ভব এবং এমন দাবি অযৌক্তিক। এমনকি জাতীয় নাগরিক পার্টিও সংসদের আগে গণভোট করার অনড় দাবি থেকে পিছিয়ে এসেছে।
অন্যদিকে, এখনো সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবিতে অনড় জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সমমনা ৭টি দল। এই ৭টি দলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে চরমোনাইর পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। এই দাবিতে এরই মধ্যে তারা রাজপথে গণমিছিল-সমাবেশ ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করে সংসদের আগে গণভোট আয়োজনের দাবিও জানিয়ে এসেছে।
পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদের আহবান অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার রাতে দুই সদস্যের একটি কমিটি করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদকে এই কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এরই মধ্যে তারা নিজেদের সমমনা ৭ দলের সঙ্গে আলোচনা করছেন। তবে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলেও তাদের দিক থেকে এখন পর্যন্ত কোন সাড়া পাননি।
অবশ্য জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ টাইমসকে জানান, বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ চলমান আছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় বসতে আরেকটু সময় লাগবে।
বিএনপির দিক থেকে ইতিবাচক সাড়া না পেলেও জাতীয় নাগরিক পার্টি ও এবি পার্টির মতো দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় জামায়াতে ইসলামী। তবে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল সংসদ নির্বাচন নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে তারাও জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে নতুন কোন জটিলতা সৃষ্টি হোক তা চাইছে না।


